চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় কুকি জঙ্গিরা। মৃত্যু হয় জওয়ানের এক শিশুকন্যা এবং ৫ বছরের এক বালকের। সেই ঘটনার প্রতিবাদে ফের অশান্ত হয়ে উঠল মণিপুর (Manipur)। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। পথে নেমেছে নাগরিক সমাজ। ইতিমধ্যেই তারা মণিপুরে ৫ দিনের বন্ধের ডাক দিয়েছেন।
রবিবার মণিপুরের বিভিন্ন স্থানে পথে নামেন হাজার হাজার মানুষ। ইম্ফলে আয়োজন করা হয় রাত্রিকালীন সমাবেশের। হাতে মশাল নিয়ে মিছিল করেন মহিলার। অভিযোগ, বিক্ষোভ দমাতে শক্তি প্রয়োগ করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধও দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি, পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে সক্রিয় কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। মণিপুরে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে বন্ধ। বন্ধ ছিল বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস। বিঘ্নিত হয় পরিবহন ব্যবস্থাও। কিছু এলাকায় কেবল অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা চালু ছিল।
বিক্ষোভ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে মণিপুর পুলিশ। তাদের দাবি, প্রতিবাদের নামে সমাজ-বিরোধী কার্যকলাপ চলছে। যাঁরা হিংসা ছড়াচ্ছেন এবং বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আরও দাবি, কিছু সমাজ-বিরোধী হিংসা ছড়ানোর জন্য বিক্ষোভকারীদের পেট্রোল বোমা, লোহার গোলা লাগানো গুলতি, পাথর ইত্যাদি সরবরাহ করছেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল রাতে বিষ্ণুপুর জেলায় মোইরাং ট্রোংলাওবিতে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বেশ কয়েকজন জঙ্গি ওই বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায়। ঘটনার সময় বাড়ির সদস্যরা ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় ৫ মাস বয়সি শিশুকন্যা ও ৫ বছরের এক বালকের। গুরুতর জখম হন তাদের মা। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা বিষ্ণুপুর জেলা। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দল বেঁধে হামলা চালায় ট্রোংলাওবি এলাকা থেকে ২০০ মিটার দূরে স্থানীয় সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা চালায়। তারপর থেকেই অশান্ত হয়ে রয়েছে মণিপুর।
