shono
Advertisement
Ram Temple

৫ জুনেই ৫৮ লক্ষ উদ্ধার, তারপরও কেন এফআইআর হয়নি? রাম মন্দিরের টাকা চুরিতে প্রশ্নের মুখে ট্রাস্ট

৬ জুন সমাজবাদী পার্টির নেতা পবন পান্ডে দলের সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবকে বিষয়টি জানান। অখিলেশ ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ৭ জুন সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 01:26 PM Jun 29, 2026Updated: 01:26 PM Jun 29, 2026

রাম মন্দিরের টাকা চুরির বিষয়ে অনেক আগে থেকেই অবগত ছিল ট্রাস্ট। কিন্তু তারপরও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমে সামনে আসছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, ৫ জুন ট্রাস্টের কর্তারা, বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে, বাকি টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে ৮ জুনের মধ্যে ট্রাস্টকে ফেরত দেওয়া হয়।

Advertisement

সূত্রের খবর, প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের পর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এফআইআর দায়ের তো অনেক দূরের কথা। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই ও ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, ৪ জুন মন্দিরের টাকায় কারচুপির বিষয়টি ট্রাস্টের নজরে আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ট্রাস্টের অন্যান্য সদস্য ও রাম মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষীরা এই টাকা উদ্ধার করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিযুক্তরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা ফেরান। অনেকে আবার অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে ট্রাস্টকে ফেরত দেন।

ট্রাস্ট ও নিরাপত্তারক্ষীদের দল অন্যান্য অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালালেও প্রথম দিনে তাঁরা টিনুর বাড়িতে যাননি।

সিটের তদন্ত শুরু হওয়ার পর প্রথম সন্দেহের তীর যায় রাম মন্দিরের কর্মী টিনু যাদবের দিকে। সূত্রের খবর, দান সামগ্রীতে আসা মূল্যবান সব ধাতু তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছিল। তবে মজার বিষয় হল, ট্রাস্ট ও নিরাপত্তারক্ষীদের দল অন্যান্য অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালালেও প্রথম দিনে তাঁরা টিনুর বাড়িতে যাননি। অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় টিনু জানান তাঁর কাছে মোট ১ লক্ষ টাকা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনুমান করা হচ্ছে, ট্রাস্টের গাফিলতির জেরে বাকি টাকা সরিয়ে ফেলার ও মূল্যবান ধাতু বিক্রি করে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ট্রাস্টের তরফে উদ্ধারকাজ চলাকালীন ট্রাস্টের নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করা হয়নি। কারণ, ট্রাস্টের কোনও গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের করলে তা লগবুকে লিপিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক। অনুমান, এই অভিযান যাতে রেকর্ডে না থাকে সে জন্য ট্রাস্টের সদস্যরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি যান।

সূত্রের খবর, বিরাট কারচুপির বিষয়টি ততদিনে মন্দিরের অনেকেরই নজরে চলে আসে। ৬ জুন সমাজবাদী পার্টির নেতা পবন পান্ডে দলের সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবকে বিষয়টি জানান। অখিলেশ ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ৭ জুন সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। যদিও ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে অখিলেশের পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুরু হয় অভিযোগ পালটা অভিযোগের ঝড়। তবে তদন্ত শুরুর পর ৮ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হতেই ট্রাস্টের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র। তাঁদের পাশাপাশি ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৪০ জন রয়েছেন সিটের সন্দেহের তালিকায়। গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ট্রাস্টের কার্যক্রম, এফআইআর দায়ের করতে বিলম্ব এবং টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement