স্ত্রীর গর্ভস্থ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন স্বামী। যার জেরে ডিএনএ টেস্টের প্রস্তাব দেন। তবে সেই পরীক্ষা হওয়ার আগেই আত্মঘাতী হলেন সন্তানসম্ভবা স্ত্রী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে তেলেঙ্গানার মেদক জেলায়। পুলিশের দাবি, স্বামীর সন্দেহের বশে লাগাতার হেনস্তার শিকার হয়েই আত্মঘাতী হয়েছেন ২৩ বছর বয়সি ওই তরুণী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই তরুণীর নাম জি সুস্মিতা। ১৮ মাস আগে মেদক জেলার গাদিপেদ্দাপুর গ্রামের জি অভিলাষের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। ৫ মাসের গর্ভবতী ছিলেন যুবতী। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সুস্মিতার মা। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত অভিলাষ। সুস্মিতা গর্ভবতী হওয়ার পর সেই অত্যাচার চরম আকার নেয়। মেয়ের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিলাষের মাও তাঁর মেয়ের উপর অত্যাচার করত।
পরিবারের অভিযোগ লাগাতার অপমান, শারীরিক হেনস্থা ও হয়রানির জেরেই আত্মঘাতী হয়েছে তাঁদের মেয়ে। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ২৩ জুন সুস্মিতার 'সীমন্তম' অর্থাৎ সন্তান প্রসবের অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যান। সেখানে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুস্মিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অভিলাষ অভিযোগ করে গর্ভস্থ সন্তান তাঁর নয়। এমনকী সন্তানের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষারও দাবি জানান তিনি। সেই সময় গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় ঠিকই, তবে অত্যাচার গুরুতর আকার নেয়। এই ঘটনার দু'দিন পরই শ্বশুরবাড়িতে আত্মঘাতী হন সুস্মিতা।
মৃত তরুণী জি সুস্মিতা ও তাঁর স্বামী জি অভিলাষ।
পরিবারের অভিযোগ লাগাতার অপমান, শারীরিক হেনস্থা ও হয়রানির জেরেই আত্মঘাতী হয়েছে তাঁদের মেয়ে। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিলাষ ও তাঁর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দু'জনকেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
