নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে ভুয়ো এপিক সংক্রান্ত সতর্কবার্তা-সহ একাধিক দাবি নিয়ে একাধিকবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্যের শাসকদলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যের তৃণমূল নেতারা। মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ তাঁদের দেখা করার কথা। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নির্বাচন ভবনে যাচ্ছেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, ফিরবাদ হাকিম। থাকছেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইকও। জানা গিয়েছে, কমিশনের দপ্তরে সাক্ষাতের পর তাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করবেন।
বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তার আগে ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে একাধিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি নয়া নির্দেশিকা চালু করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি রাজ্যকে সেই মর্মে নির্দেশ পাঠানো হয়। তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সেসব নির্দেশিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁর মতে, যুক্তিহীন এবং জটিল ছিল সেসব নির্দেশাবলি। তার প্রতিবাদও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চাপে পড়ে কমিশন জটিলতা এড়াতে দু, একটি নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে। তার মধ্যে অন্যতম, ১৯৮৭ থেকে ২০০৪ সালে জন্মানো ব্যক্তিদের ফর্ম পূরণের সময় বাড়তি কোনও নথি দিতে হবে না। নিঃসন্দেহে তা বড়সড় স্বস্তি আমজনতার কাছে।
সোমবার এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পরই মঙ্গলবার রাতে জানা যায়, রাজ্য তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি যাচ্ছেন দিল্লির নির্বাচন কমিশনে। নেতৃত্বে থাকবেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। থাকছেন কলকাতার মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ক্রীড়া ও বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। এদিন বেলা ১১টা নাগাদ দিল্লিতে কমিশনের দপ্তরে যাওয়ার কথা তাঁদের। সেখানে আলোচনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সবিস্তারে জানাবেন তাঁরা। ঠিক কী দাবিতে এদিন শাসকদলের ৫ নেতা-মন্ত্রীর কমিশনে যাওয়া, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
