কেন্দ্রের ধনুর্ভাঙা পণে অবশেষে প্রায় মাওবাদী মুক্ত হয়েছে ভারত। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যের বনাঞ্চলে জল-জঙ্গল-জমি বাঁচানোর নামে 'লাল সন্ত্রাসে' ইতি পড়েছে। অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরেছেন একদা দাপুটে মাওবাদী নেতারা। বাকিরা কারাবন্দি। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে এ বড় প্রাপ্তিই বটে! এসব রাজ্যে এবার শিল্পচর্চায় জোর দেওয়া হচ্ছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গোয়ার নিজস্ব সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে রাষ্ট্রপতি ভবনের আমন্ত্রণপত্রে। স্বাধীনতার সপ্তাহে, ৬ থেকে ১৫ আগস্ট রাইসিনা হিলসে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অতিথিদের জন্য যে আমন্ত্রণপত্রটি তৈরি হয়েছে, তার নকশা অপূর্ব! চার রাজ্যের যাবতীয় শিল্পকলা দিয়ে সাজানো কার্ডটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
চার রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের নকশা রাষ্ট্রপতি ভবনের আমন্ত্রণপত্রে, ছবি: সংগৃহীত
তিন মাস, ১৩০ জন শিল্পীর নিরন্তর কাজ আর দক্ষতায় তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনের বিশেষ আমন্ত্রণপত্র। আসলে এক ঠিক আমন্ত্রণপত্র বললে ভুল হবে। কার্ড-সহ অতিথিদের কাছে একটা প্যাকেজ তুলে ধরা। প্রতি বছরই এই আয়োজন করা হয়ে থাকে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে। একেকবছর দেশের একেকটি রাজ্যের শিল্প প্রাধান্য পায়। এবার ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গোয়ার নিজস্ব কারুকাজে সাজানো হয়েছে সেই প্যাকেজ। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হস্তশিল্পের উপর। কাপড় বা কাগজে সুতোর কাজে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রদেশের নিজস্ব ছন্দ। কাভি, ওয়ারলি, ভীল, ডোকরা ও বাঘ শিল্পে নকশা রয়েছে তাতে। প্রকৃতি সংরক্ষণের বিশেষ বার্তাবহ সেসব শিল্পকলা।
মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের খাম নদীর দু'পাশের বসবাসকারীরা বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃতির উপাসনা করে। দুই রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী একখণ্ড ছবিতে তারই প্রকাশ। এছাড়া গোয়ার কৃষকরা যেভাব জল ও জমি রক্ষা করে, তা বোঝাতে সাদা ছোট্ট আজুলেজো টাইলসকে ক্যানভাস করে নীল রঙে আঁকা হয়েছে। বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে ছত্তিশগড়ের একদা মাওবাদী এলাকা বস্তারের শিল্পকর্ম। ডোকরা ধাতু দিয়ে তৈরি করা একটি চক্রাকার শোপিস রয়েছে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণের ঝুলিতে।
মধ্যপ্রদেশে ধারের বিখ্যাত হাতে আঁকা নকশাওয়ালা কাঠের বাক্স,ছবি: সংগৃহীত
এছাড়া মহারাষ্ট্রের ওয়ারলি ও ভীলদের কায়দায় আঁকা ছবি সম্বলিত ফ্রেম রয়েছে অতিথিদের উপহার হিসেবে। মধ্যপ্রদেশে ধারের বিখ্যাত হাতে আঁকা নকশাওয়ালা কাঠের বাক্স দেওয়া হয়েছে। গোটা প্যাকেজটি মুড়ে দেওয়া হয়েছে বস্তারের পুনর্ব্যবহারযোগ্য নরম, সাদা হ্যান্ডমেডের খামে। তাতে যুক্ত করা হয়েছে ছোট একটি লোহার ঘণ্টা, যা বস্তারের শিল্পীরা নিজে হাতে তৈরি করেছেন। সামগ্রিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত শৈল্পিক, তা বলাই বাহুল্য। বিদেশি অতিথিদের তাক লেগে যাওয়ার মতোই।
