সোমবার ছিল শিশুকন্যার জন্মদিন। বাইকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে জামাকাপড় কিনতে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু আচমকাই শুরু হয় স্ত্রীর সঙ্গে বচসা। এরপরই বাইক থামিয়ে সেতুর উপরে ছবি তোলার বাহানায় শিশুকন্যাকে যমুনায় ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, তিনদিন পরই প্রথম জন্মদিন ছিল শিশুটির। এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যান পথচারীরা। তাঁদের হাতে প্রবল নিগৃহীত হয়েছেন অভিযুক্ত। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল? ওই ব্যক্তির স্ত্রী লক্ষ্মী জানাচ্ছেন, অভিযুক্তের নাম রিঙ্কু। তিনি আগ্রার কাছে বদমাঘি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা একরত্তি মেয়ের জন্য জামাকাপড় কিনতে যাচ্ছিলেন বাইকে। আকবরা সেতুর উপরে বচসা শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর। এরপরই নাকি বাইক থামিয়ে রিঙ্কু বলেন, তিনি মেয়ের সঙ্গে ছবি তুলবেন। একটি সেলফি তিনি তোলেনও। এরপরই ওই ব্যক্তি শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে দেন সেতু থেকে নিচে। সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মী আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে সেতুর রেলিংয়ের কাছে ছুটে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন রিঙ্কু, অভিযোগ তেমনই। এমন দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যান পথচারীরা। তাঁরা মারধর করেন রিঙ্কুকে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে।
লক্ষ্মী এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জানিয়েছেন, ‘‘২০২৪ সালের ১৪ জুন আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য আমাকে হেনস্থা করা শুরু হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর আমি ভরতপুরের ডিগ এলাকার জাতোলি কাদমি গ্রামে আমার বাপের বাড়িতে ৬ মাস ছিলাম। পরে অবশ্য আমার স্বামী আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। মেয়ে হওয়ায় তিনি একেবারেই খুশি ছিলেন না। প্রায়ই ঝগড়া করতেন।'' শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি শিশুকন্যাটির। তার সন্ধানে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
