shono
Advertisement
Arunachal

অরুণাচলে ফুলেফেঁপে উঠছে বহু পাহাড়ি হ্রদ! বলছে গবেষণা, হতে পারে নেপালের মতো বিপর্যয়?  

অরুণাচলের ১২৭টি হ্রদের পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘ডিস্কভার হ্যাজার্ডস’ নামের একটি জার্নালে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 07:45 PM Sep 04, 2026Updated: 07:45 PM Sep 04, 2026

নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বান ও বন্যার নেপথ্যে ছিল হিমবাহ ভাঙা বিপুল জলরাশি। একই পরিস্থিতি হতে পারে ভারতেও! সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, দ্রুত হিমবাহ গলনের ফলে অরুণাচল প্রদেশের দু'টি হ্রদের জল বিপজ্জনকভাবে উপচে পড়ছে। যে কোনও মুহূর্তে পাড় ভেঙে বন্যা বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা 'গ্লফ' পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আরও ৩৬টি হ্রদ নিয়েও মাঝারি ঝুঁকি রয়েছে।

Advertisement

অরুণাচলের ১২৭টি হ্রদের পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘ডিস্কভার হ্যাজার্ডস’ নামের একটি জার্নালে। সেখানে বলা হয়েছে, ১২৭টি হ্রদের মধ্যে ৮৯টিতে কম ঝুঁকি, ৩৬টিতে মাঝারি ঝুঁকি এবং ২টি হ্রদে ‘গ্লফ’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে। ঠিক কোন সময়ে ‘গ্লফ’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে? পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদগুলিতে জমা জল হঠাৎ বেরিয়ে এলে ‘গ্লফ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণত প্রাকৃতিক মোরেইন বাঁধ ভেঙে যাওয়াই এর কারণ।

গবেষণা অনুযায়ী, মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদগুলি মূলত আপার দিবাং ভ্যালি, পশ্চিম কামেং এবং তাওয়াং অঞ্চলের। এই অঞ্চলগুলির ঢালু অংশে প্রচুর জনবসতি এবং জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো রয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহগুলির গলন অব্যাহত থাকলে হ্রদগুলি অতিরিক্ত জালের চাপে ভেঙে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নেপালের মতো ভয়ংকর হড়পা বান ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে অরুণাচলের বিস্তীর্ণ অংশে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদগুলির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। ১৯৮৮ সালে ১১০.৭২ হেক্টর এলাকা জুড়ে ২৪টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ ছিল। ২০২০ সাল নাগাদ হ্রদের সংখ্যা কমে ২২-এ নেমে এলেও, এদের মোট আয়তন বেড়ে হয়েছে ১২৫.৯৩ হেক্টর। উপগ্রহচিত্র দেখে গবেষকরা বলছেন, হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের এলাকা বৃদ্ধির অর্থ হল, হ্রদগুলির আয়তন দ্রুত বাড়ছে।

বিপজ্জনক বিষয়টির নেপথ্য কারণও জানিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের বক্তব্য, পূর্ববর্তী গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের আয়তন দ্রুত বাড়ার কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয়জুড়ে হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। এর ফলে নতুন নতুন হ্রদ সৃষ্টি হচ্ছে, এইসঙ্গে পুরনো হ্রদগুলির আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অরুণাচল প্রদেশে অধিক উচ্চতায় বরফ গলা জলের হ্রদের সংখ্যা প্রচুর। বিশেষত দিবাং উপত্যকা, লোহিত, তাওয়াং, আপার সিয়াং এবং পশ্চিম কামেং জেলায় হ্রদগুলি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন জানান, অরুণাচল-সহ হিমালয়স‌ংলগ্ন সবক’টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতিতে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রশ্ন হল, সিকিমের মতো বিপজ্জনক হ্রদ থেকে পাম্পের মাধ্যমে জল নিষ্কাষণে কি বিপদ এড়ানো সম্ভব?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement