দেশবাসীকে বিদেশযাত্রা কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ডাকে সাড়া দিচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) ! আপাতত তিনমাসের জন্য একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা বাতিল করে দিয়েছে বিমান পরিবহন সংস্থাটি। যদিও এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে কিছু বলা হয়নি। কেন আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা বন্ধ করা হল, সেই নিয়ে বিবৃতি জারি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। একাধিক রুটের বিমান বন্ধ হলেও আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করছে না উড়ান সংস্থাটি।
শিকাগো, নিউ ইয়র্কের মতো একাধিক মার্কিন শহরে উড়ান পরিষেবা একেবারে বন্ধ করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়াগামী উড়ানের সংখ্যা। সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, ঢাকা, কাঠমাণ্ডু, কলম্বোর মতো শহরগুলির উড়ান পরিষেবাতেও অনেকখানি কাটছাঁট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গরমের ছুটির আবহে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলিতে বেড়াতে যান অনেক ভারতীয়ই। কিন্তু সেখানে যাওয়ার উড়ান পরিষেবা অনেকখানি কমিয়ে দিল এয়ার ইন্ডিয়া। সব মিলিয়ে অন্তত ৭টি উড়ান পরিষেবা আগস্ট মাস পর্যন্ত একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২২টি আন্তর্জাতিক উড়ানের সংখ্যা কমেছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বেই বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিমানের জ্বালানির দাম বাড়ছে হুহু করে। এহেন পরিস্থিতিতে দিনকয়েক আগেই এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট কমানো হবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক-দুই ধরনের রুটেই। সেই একই যুক্তি দেখিয়ে বুধবার আন্তর্জাতিক বিমানে কাটছঁটের ঘোষণা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'বেশ কিছু এলাকায় আকাশসীমা এখনও বন্ধ। সেই সঙ্গে জেট ফুয়েলের দাম চড়চড়িয়ে বাড়ছে। সেকারণেই কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থা।'
প্রসঙ্গত, রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে মোদি বলেন, “দেশপ্রেম মানে শুধু সীমান্তে জীবন উৎসর্গ করা নয়। দেশপ্রেম মানে দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করা এবং দৈনন্দিন জীবনে দেশের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করা। এখন সংকটের সময়ে, অন্তত এক বছরের জন্য আমাদের বিদেশে যাওয়ার ভাবনাকে সরিয়ে রাখতে হবে। ভারতে অনেক জায়গা আছে। ওখানে আপনারা যেতে পারেন। বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর যত উপায় আছে, সব আমাদের করতে হবে।” এই ঘোষণার পরেই ভারতীয়দের পছন্দের একাধিক জায়গার উড়ান পরিষেবায় কোপ পড়েছে।
