বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শুরুতে বাকি ঠিক এক মাস। আর সেসময় কোচ নিয়ে নাটক কুরাকাও ফুটবলে। শেষবেলায় এসে পদত্যাগ করলেন তাদের বর্তমান কোচ ফ্রেড রুটেন। শোনা যাচ্ছে, তাঁর পূর্বসূরি ডিক অ্যাডভোকেটের হাতেই ফের যাচ্ছে দলের ভার। প্রখ্যাত ডাচ কোচ অ্যাডভোকেটের হাত ধরেই বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে এসেছে কুরাকাও। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ক্যারিবিয়ান দেশটির ফুটবলে আমূল পরিবর্তন করেছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপের টিকিট পায় কুরাকাও। যোগ্যতা অর্জন পর্বের দশ ম্যাচে একটিও হারেনি কোচ অ্যাডভোকেটের ছাত্ররা। তবে ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিক কারণে দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। সেসময় এই ডাচ কোচ বলেন, "ফুটবলের থেকে আমার কাছে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ।” সেসময় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় নেদারল্যান্ডসেরই রুটেনকে। তবে তাঁর দল পরিচালনা নিয়ে অখুশি ছিলেন ফেডারেশন এবং ফুটবলারদের একাংশ। পাশাপাশি যে ডাচ বিমান সংস্থা কুরাকাওয়ের স্পনসর, তারাও চাইছিল দায়িত্বে ফিরুন অ্যাডভোকেট। পরিস্থিতি বুঝে পদত্যাগ করেছেন রুটেন। তাঁর বার্তা, "সময় কমে আসছে। কুরাকাওকে এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে। যা হয়েছে, তা নিয়ে আমি খুশি বলতে পারছি না। তবে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
বিশ্বকাপে জার্মানি, আইভরি কোস্ট ইকুয়েডরের সঙ্গে রয়েছে কুরাকাও। সূত্রের খবর, অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব ছাড়ার কারণ ছিল মেয়ের অসুস্থতা। যে কারণে বিদেশে থাকতে চাইছিলেন না তিনি। তবে মেয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ হওয়ায় ফের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা নেই তাঁর। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে কুরাকাওয়ের ডাগআউটে দাঁড়ালে রেকর্ড গড়বেন এই ডাচ কোচ। প্রতিযোগিতায় বয়স্কতম কোচ হবেন ৭৮ বছর বয়সি অ্যাডভোকেট। বর্তমানে সেই রেকর্ড রয়েছে অটো রেহাগেলের।
উল্লেখ্য, কুরাকাও প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবে। যাদের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লক্ষ। মোট আয়তন ৪৪৪ বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ বৃহত্তর কলকাতার থেকে কয়েক গুণে ছোট। বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ। শুধু এটাই নজির নয়, আরও একটি নজির জুড়বে তাদের নামে। সেটা হল, কুরাকাও হল এমন একটি দেশ, যাদের কোনও প্লেয়ারই সেই দেশে জন্মগ্রহণ করেনি। অর্থাৎ, সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। ফুটবল বিশ্বকাপে সেটাও নতুন ঘটনা।
