বছরের শুরুতেই ঘুরে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির মোড়। বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যু। তাঁর জায়গায় নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। এরপরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যে বেড়েছে বিতর্ক। নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র? এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তৃণমূল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এবার এই দুর্ঘটনার তদন্ত জোরদার করল ডিজিসিএ।
মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত তীব্র হয়েছে। অসামরিক বিমান চলাচল দপ্তর (ডিজিসিএ) ভিএসআর ভেঞ্চারসের একটি বিশেষ অডিটের নির্দেশ দিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অডিট রিপোর্ট পেশ করার কথা বলা হয়েছে। এতে কোম্পানির চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স এবং লগবুকের তদন্ত করা হবে। প্রোটোকল অনুযায়ী কোম্পানি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং লগবুক ফাইল করার উপর নজর রাখছিল কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে।
ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারসকে ইইউ-এর আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দুর্ঘটনার পরে এই সিদ্ধান্ত নেয় ইইউ।
এনসিপি প্রধান পাওয়ার মুম্বাই থেকে পুনের বারামতিতে যাওয়ার সময় এই সংস্থার একটি লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর বিমান ভাড়া করেন। বারামতিতে দ্বিতীয় অবতরণের চেষ্টার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। দৃশ্যমানতা কম থাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। অজিত পাওয়ার-সহ বিমানে থাকা আরও চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরেই শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, “অজিত কিছু দিন আগেই বলছিলেন, তাঁর কাছে কয়েক জন বিজেপি নেতার বিষয়ে ফাইল রয়েছে। তার পরেই দুর্ঘটনা।” এর পর রাখঢাক উড়িয়ে সঞ্জয় বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আমার সন্দেহজনক ঠেকছে। আমি সংসদে বিষয়টি তুলব।” মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তরও বলেন, “অজিত দাদার আচমকা মৃত্যু কোনও ষড়যন্ত্র হলেও হতে পারে। এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।"
