আমেরিকার সঙ্গে ভারতের এই ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি ধৈর্যের ফল। মঙ্গলবার সংসদে এনডিএ সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, "মার্কিন শুল্কবাণ নিয়ে বহু মানুষ সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু আমরা ধৈর্য দেখিয়েছিলাম। আজ তার ফল সবাই দেখতে পাচ্ছেন।"
দীর্ঘ টালবাহানা এবং প্রায় ছ'বারের বৈঠকের পরে অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি। ভারতের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে আমেরিকা। এরপরই মঙ্গলবার এনডিএ সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে হাততালি এবং প্রশংসায় ভেসে গেলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি একটি অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য আলোচনায় সরকারের ধারাবাহিক ও সংযত নীতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। মার্কিন শুল্কবাণ নিয়ে বহু মানুষ সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু আমরা ধৈর্য দেখিয়েছিলাম। আজ তার ফল সবাই দেখতে পাচ্ছেন।" মোদি আরও বলেন, "গোটা বিশ্ব এখন একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে হচ্ছে। বিশ্ব এখন ক্রমশ ভারতের দিকে ঝুঁকছে। আমি একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে একথা বলেছি। আজ বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও ভারত মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।"
দীর্ঘ টালবাহানা এবং প্রায় ছ'বারের বৈঠকের পরে অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি। ভারতের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে আমেরিকা।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার মোদির সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।তারপরই ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে বলে ঘোষণা করেছে। এই বাণিজ্যচুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি।
ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলছিল। গত বছর পরপর দু’বার ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা।
ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলছিল। গত বছর পরপর দু’বার ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা। ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল কেনার বেজায় চটেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেজন্য ভারত-সহ একাধিক দেশের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ফের চাপ বাড়িয়েছিল আমেরিকা। আরও বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও চাপানো হয়। ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ডামাডোল পেরিয়ে অবশেষে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হল দু'দেশের।
