বিবাদ ভুলে একত্রিত হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। সবটা চূড়ান্ত করে ফেলেছিল এনসিপির দুই শিবির। সব ঠিক থাকলে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ঝড় তুলে ৮ ফেব্রুয়ারি কাকা শরদ পওয়ারের সঙ্গে 'পুনর্মিলন' ঘোষণার কথা ছিল অজিত পওয়ারের। কিন্তু ১১ দিন আগে আচমকা বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যু সবটা ঘেঁটে দিল। দুই পওয়ার শিবির মিশে গেলে রাজনৈতিকভাবে যে ক্ষতির মুখে পড়তে হত বিজেপি-তথা শাসক শিবিরকে, সেটা এড়ানো গেল।
সদ্য পিম্পরি-চিঁচওয়াড় ও পুণের পুরসভায় ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে এনসিপির দুই শিবির। তাতে আশানুরূপ ফল আসেনি। তবে সেটা ছিল জোট। দুই শিবির আলাদা প্রতীকে লড়াই করেছিল। এবার মহারাষ্ট্রের জেলা পরিষদের নির্বাচনও যৌথভাবে লড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলে দুই শিবির। এবার আর আলাদা আলাদা প্রতীকে নয়। দুই শিবিরের প্রার্থীরাই অজিত পওয়ারের এনসিপির 'ঘড়ি' প্রতীকে লড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। আর সেটা হল বারামতি-পুণের আশেপাশে বিজেপি ভালোমতোই ধাক্কা খেত। কারণ এই 'ঘড়ি'ই এনসিপির আসল প্রতীক। শরদ পওয়ার এই প্রতীক হারানোর পর তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরেছিল, সেটা ফেরানোই লক্ষ্য।
জানা গিয়েছে, পর্দার আড়ালে কাকা শরদ পওয়ারের দল এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) এবং তাঁর এনসিপিকে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সিলমোহর দিয়েছিলেন অজিত। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পরিষদের নির্বাচনে যৌথভাবে লড়াই করত দুই দল। এমনকী, দুই শিবিরের যৌথ প্রার্থীদের জন্য প্রচার করতেই বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত। ফলাফল ঘোষণার পর ৮ ফেব্রুয়ারিই দুই শিবির পুনর্মিলন ঘোষণা করত। কিন্তু সবটা ভেস্তে গেল অজিতের মৃত্যুতে। স্বাভাবিকভাবেই অজিতের মৃত্যুর নেপথ্যের ষড়যন্ত্রের তত্ব পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অনেকেরই মনে হচ্ছে বিষয়টা বেশ রহস্যময়।
অবশ্য অজিতের মৃত্যুতেও দুই শিবিরের মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই শিবিরের নেতারাই জানাচ্ছেন, আলোচনা এখনও চলছে। হ্যাঁ 'দাদা'র মৃত্যুতে সেই প্রক্রিয়া খানিকটা ধাক্কা খেয়েছে। তবে পুনর্মিলন হবেই। হয়তো একটু সময় লাগবে।
