রামমন্দিরে বিপুল টাকা ও দান সামগ্রী চুরি নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই বদ্রীনাথ কিংবা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরেও চুরির অভিযোগ উঠেছে। এবার শিরোনামে গুজরাটের বনাসকাঁঠা জেলার অম্বাজি মন্দিরেও। অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে দানবাক্স থেকে প্রণামীর অর্থ চুরির দৃশ্য! দু'মাসের পুরনো ওই ফুটেজ ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দায়ের হয়েছে এফআইআর। পুলিশ ইতিমধ্যেই মন্দিরের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গিয়েছে, ভাইরাল হয়ে যাওয়া ফুটেজ ৫ মে-র। স্টোররুমে নোট গণনার সময় এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। টাকার বান্ডিলটি লুকিয়ে অভিযুক্ত শৌচাগারে যাওয়ার অজুহাতে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় তাঁর পকেট থেকে ১,০৪,০০০ টাকার একটি বান্ডিল পড়ে যায়। আর তা দেখতে পেয়েই অন্য কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান বিষয়টি। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘শ্রী আরাসুরি অম্বাজি মাতা দেবস্থান ট্রাস্ট’-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি মিহির প্যাটেল জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে ট্রাস্টের তরফে একটি আদর্শ আচরণবিধি লাগু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর মধ্যেই শিরোনামে জম্মু ও কাশ্মীরের বৈষ্ণোদেবী মন্দির। দানে পাওয়া ৫৫০ কোটি টাকার রুপো নকল, নাকি চুরি গিয়েছে সে সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্তকারী সংস্থাকে। মঙ্গলবার এই নির্দেশ জারি করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের একটি আদালত। এদিকে অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় দিন কয়েক ধরেই সরগরম রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যেই ৩ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাঁদের জেরা করেই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশি জেরায় তিন অভিযুক্ত করুণেশ পান্ডে, লবকুশ তিওয়ারি ও অনুকল্প মিশ্রের দাবি, মন্দিরে দানের টাকা প্রথম চুরি করতে শুরু করেন অবিনাশ শুক্লা। শুরুতে সেই টাকার অঙ্ক ছিল দিনে ২০০০। পরে চুরি চালাতে রীতিমতো দল গঠন করে তাঁরা। চুরির পরিমাণ একলাফে বেড়ে হয় দিনে ৩ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি হিন্দুদের আরেক পবিত্র তীর্থ বদ্রীনাথেও একই অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের পরেই বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির এক কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
