shono
Advertisement
Assam Flood

জীবসেবাই শিবসেবা! সঞ্চয়ের দেড় লক্ষ টাকা অসমের বন্যাদুর্গতদের দান, ভাইরাল ১০৩ বছরের মহিলা

এই বয়সে ২৩৩ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে সেই অর্থ তিনি তুলে দেন জেলাশাসকের হাতে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 07:52 PM Aug 21, 2026Updated: 07:56 PM Aug 21, 2026

'জীবসেবাই শিবসেবা' - একথা কবেই বলে গিয়েছিলেন আমাদের মণীষীরা। জীবে প্রেম করলে ঈশ্বরের প্রকৃত সেবা হয়। জীবনের উপান্তে দাঁড়িয়ে সেকথাই যেন ফের প্রমাণ করে দিলেন শতবর্ষ পেরনো কনকলতা দাস। নাহ, নাম শুনে অবশ্য তেমন চিনে ফেলার কারণ নেই। তিনি নামে এমন বিখ্যাত কিছু নন। তবে কাজের ক্ষেত্রে তাঁকে সম্ভবত চিরকাল মনে রাখবেন অসমবাসী। বন্যাদুর্গত মানুষকে সাহায্য করতে নিজের সঞ্চয়ের দেড় লক্ষ টাকা তুলে দিলেন কনকলতা দেবী। ১০৩ বছর বয়সে তা দিতে দু'শো কিলোমিটারের বেশি পথ পেরিয়েছেন তিনি। কনকলতা দেবীর এই উদ্যোগ দেখে বিস্মিত জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। নতজানু হয়ে তাঁকে প্রণাম করেছেন মহকুমা শাসকও।

Advertisement

শোনিতপুরের মাজরইমারির বাসিন্দা ১০৩ বছরের কনকলতা দাস। সারাজীবন ধরে সামান্য অর্থই সঞ্চয় করতে পেরেছিলেন। অর্থ কম হতে পারে, কিন্তু হৃদয় তাঁর বৃহৎ, আকাশের মতো। মানুষের দুঃখে প্রাণ কাঁদে তাঁর। বারংবার মানুষের বিপদে সাহায্য করেছেন কনকলতা দেবী। এমনকী শেষ জীবনেও নিজের স্বার্থের কথা ভাবেননি। শোনিতপুর থেকে ২৩৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শিবসাগরে গিয়ে সামান্য সঞ্চয়ের পুরোটাই তিনি দান করলেন নিজের রাজ্যের বন্যাদুর্গতদের জন্য। তাঁর দেওয়া মোট ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকায় ৭৭ টি পরিবারকে সাহায্য করা হয়েছে।

বন্যায় প্লাবিত অসমের বহু জেলা,ঘরবাড়ি হারিয়েছেন প্রচুর মানুষ, ছবি: সংগৃহীত

শোনিতপুরের মাজরইমারির বাসিন্দা ১০৩ বছরের কনকলতা দাস। সারাজীবন ধরে সামান্য অর্থই সঞ্চয় করতে পেরেছিলেন। অর্থ কম হতে পারে, কিন্তু হৃদয় তাঁর বৃহৎ, আকাশের মতো। মানুষের দুঃখে প্রাণ কাঁদে তাঁর। বারংবার মানুষের বিপদে সাহায্য করেছেন কনকলতা দেবী। এমনকী শেষ জীবনেও নিজের স্বার্থের কথা ভাবেননি। শোনিতপুর থেকে ২৩৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শিবসাগরে গিয়ে সামান্য সঞ্চয়ের পুরোটাই তিনি দান করলেন নিজের রাজ্যের বন্যাদুর্গতদের জন্য। তাঁর দেওয়া মোট ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকায় ৭৭ টি পরিবারকে সাহায্য করা হয়েছে বলে জানান শিবসাগরের ডেপুটি কমিশনার মৃদুল যাদব। প্রবীণা কনকলতা দেবীকে দেখে তিনি আপ্লুত। বলছেন, “এত বছর ধরে কাজ করছি, এমন খাঁটি পরোপকারী মানুষ আমি আগে দেখিনি। কনকলতা দাস আমাদের শিখিয়ে দিলেন, মানুষের আসল কর্তব্যবোধ ঠিক কেমন হয়। ওঁর আশীর্বাদ আর এই দান বহু অর্থসাহায্যের চেয়ে ঢের বেশি মূল্যবান।''

কনকলতা দাসের এই কীর্তি ভাইরাল নেটদুনিয়ায়। তাঁর ভিডিও, ছবি দেখে নেটিজেনরা অনুপ্রাণিত। কারও মতে, 'তিনি অনেককে পুনর্জন্ম দিয়েছেন।' কেউ বলছেন, '১০৩ বছর বয়সি কনকলতা দেবী নিজের সমস্ত সঞ্চয় যেভাবে অসমের বন্যা বিপর্যস্তদের জন্য তুলে দিলেন, তা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। আসলে প্রকৃত সম্পদশালী এমনই হন। তাঁকে স্যালুট!' এভাবেই কনকলতা দাস দেখিয়ে দিলেন, এই অস্থির সময়েও নিজের জন্য নয়, অন্যকে বাঁচানোর তাগিদ বেশি। তাঁর মানবজনম সত্যিই সার্থক! ঠিক নামের মতোই হৃদয় তাঁর খাঁটি সোনা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement