অসম গণপরিষদ, রাষ্ট্রীয় লোকদল, আইএনএলডি, অকালি দল, বিএসপির পথে কি এবার এআইএডিএমকে? তামিলনাড়ুর মসনদ থেকে পরপর দু'বার দূরে থাকার দরুন এবার সত্যি সত্যিই টিকে থাকার লড়াইয়ে জয়ললিতার দল। তামিলনাড়ুর নির্বাচনে এ বছর তৃতীয় হওয়ার পর রীতিমতো বড়সড় ভাঙন শুরু হয়েছে AIADMK-তে। ইতিমধ্যেই চারজন বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট চারজন AIADMK বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই বিজয়ের দল টিভিকে-তে যোগ দিয়েছেন। বাকি একজনও সে পথেই হাঁটতে চলেছেন। ফলে বর্তমানে জয়ললিতার দলের বিধায়ক সংখ্যা কমে ৪৩-এ দাঁড়িয়েছে। যা খবর তাতে আগামী দিনে আরও একাধিক বিধায়ক এই একই পথ ধরতে পারেন। ফলে তামিল রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই এখন চ্যালেঞ্জ একসময়ের শাসকদলের কাছে।
সূত্রের দাবি, সব মিলিয়ে এআইএডিএমকের আরও অন্তত ১৬ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন করতে ইচ্ছুক। এমনকী দলের প্রধান পালানিস্বামী যদি বিজয়কে সমর্থনে রাজি না হন, তাহলে তাঁরা সদলবলে পালানিস্বামীকে ছেড়ে নিজেরাই জয়ললিতার দলের মালিকানা দাবি করতে পারেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ৩ বারের রাজ্যসভার সাংসদ সি ভি সন্মুগামগ এবং এস পি ভেলুমানি। তাঁদের দাবি, দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে। ইতিমধ্যেই ওই বিদ্রোহী বিধায়করা পালানিস্বামীর বদলে এস পি ভেলুমানিকে এআইএডিএমকের বিধানসভার দলনেতা হিসাবে দাবি করেছেন। কিন্তু বিজয় নাকি চাইছেন না AIADMK বিধায়করা সরাসরি তাঁর দলে যোগ দেন। তিনি সব বিদ্রোহী বিধায়ককে পদত্যাগ করে পরে জিতে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। সেকারণেই প্রতিদিন নিয়ম করে বাড়ছে ইস্তফা। যা পরিস্থিতি তাতে আগামী দিন আরও এআইএডিএমকে বিধায়ক ইস্তফাদ দিতে পারেন।
এমনিতেই জয়ললিতার মৃত্যুর পর বহুবিভক্ত হয়েছে AIADMK। কখনও দিনাকরণ, কখনও পনিরসেলভম, কখনও শশিকলা। পরপর ভাঙনে দুর্বল হয়েছে তামিল রাজনীতির অন্যতম প্রধান পক্ষ। এবার আরও একটি ভাঙন পালানিস্বামীরা সইতে পারবেন কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন।
