রাম মন্দিরে চুরি মামলায় তিনি ক্লিনচিট পেয়েছেন। তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পায়নি। ঠিক তারপরই চম্পত রাইয়ের লেখা বিস্ফোরক চিঠি প্রকাশ্যে এল। ওই চিঠিতে মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন আমলা নৃপেন্দ্র মিশ্রকে কড়া ভাষায় নিশানা করেছেন চম্পত।
রাম মন্দির ট্রাস্ট থেকে ইস্তফার পর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ৯ পাতার চিঠি প্রকাশ করে নৃপেন্দ্র মিশ্রকে নিশানা করেন ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধান। মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা মিশ্রর ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রাইয়ের দাবি, ১৫ সদস্যের ট্রাস্টে মিশ্রর পরামর্শেই মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল লারসেন অ্যান্ড টুবরোকে। মন্দিরের নকশা ও নির্মাণ সংক্রান্ত কাজের জন্য নয়ডার একটি ডিজাইন অ্যাসোসিয়েট সংস্থা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও মিশ্রর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ওই সংস্থার প্রধান জয় কক্তিকরের নামও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রাই।
চম্পত রাইয়ের দাবি, "ট্রাস্টে ১৫ জন সদস্য ছিলেন বটে কিন্তু অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নৃপেন্দ্র মিশ্র একাই নিতেন। এমনকী মন্দির নির্মাণের কাজে তিনি এমন কিছু লোককে নিয়োগ করেছিলেন যারা নিজেদের স্বার্থে কাজ করছিলেন। এঁদের মধ্যে এমন লোকও আছেন যারা হয়তো ৬ বছরে একবার বা দু'বার মাত্র এসেছিলেন।" তাৎপর্যপূর্ণভাবে নৃপেন্দ্র মিশ্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই তিনি মন্দির কমিটির মাথায় বসেন বলে শোনা যায়। তাঁকে এভাবে নিশানা করাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে অসংখ্য ভক্তের অনুদানের ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল মাস তিনেক আগে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। উত্তর প্রদেশের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা দেশে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়। সেসবের মধ্যেই চম্পত রাই যেভাবে নৃপেন্দ্র মিশ্রকে নিশানা করলেন সেটা তাৎপর্যপূর্ণ।
