আরএসএসের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ায় অপরাধে সাসপেন্ড করেছিল কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। এবার ট্রাইব্যুনালে বড়সড় স্বস্তি পেলেন সেই দুই শিক্ষক। দু'জনের সাসপেনশনেই আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই দুই শিক্ষককেই নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে।
গুরুরাজ জোশী এবং আন্না সাহেব দেশমুখ। গত মাসে সংঘের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অপরাধে সাসপেন্ড হতে হয়েছিল দুই শিক্ষককেই। তাঁদের বিরুদ্ধে সার্ভিস রুল ভেঙে ‘রাজনৈতিক’ কার্যকলাপে যোগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই আরএসএসের পথ সঞ্চালনা অর্থাৎ শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। সোশাল মিডিয়ায় সংঘসেবকের বেশে তাঁদের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই ইয়াদগির জেলা প্রশাসনের তরফে সাসপেনশনের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন স্পষ্ট উল্লেখ করে দেয়, “আপনার আরএসএসের অনুষ্ঠানে যোগদান কর্নাটকের সরকারি কর্মী সার্ভিস রুলের একাধিক ধারা লংঘন করে।”
যদিও দুই শিক্ষকেরই দাবি, তাঁরা কোনও সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেননি। ওটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। দু’জনেরই দাবি ছিল, তাঁরা ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রবিবারে। অর্থাৎ কাজের সময়ের বাইরে। ফলে ওই সময় তিনি কী করছেন, সেটা সরকারের দেখার কথা নয়। তাছাড়া ওই অনুষ্ঠানটি ছিল সাংস্কৃতিক, কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। সাসপেনশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই দুই শিক্ষকই কালবুর্গির কর্নাটক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁদের সাসপেনশনে আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে।ওই শিক্ষকরা এবার নিজেদের পক্ষের যুক্তি ট্রাইব্যুনালে বলার সুযোগ পাবেন।
ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের জন্য ধাক্কা। কারণ সে রাজ্যে ঘুরপথে আরএসএসের সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধের চেষ্টা করছেন পুলিশমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। শিক্ষকদের সাসপেনশনও আরএসএসের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার বৃহত্তম পরিকল্পনার অংশ ছিল।
