গুজরাটের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দেশ। রাজ্যসভায় গুজরাট থেকে কংগ্রেসের শেষ প্রতিনিধিত্বও কার্যত শেষ হয়ে গেল। আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় চারটি আসনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নিয়েছে বিজেপি। এর ফলে স্বাধীনতার পর প্রথমবার গুজরাট থেকে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের কোনও সদস্য থাকছে না।
বর্তমানে গুজরাট থেকে কংগ্রেসের একমাত্র রাজ্যসভা সাংসদ হলেন শক্তিসিং গোহিল। তাঁর মেয়াদ ২১ জুন শেষ হচ্ছে। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছে গুজরাটের উচ্চকক্ষে কংগ্রেসের উপস্থিতিও। রাজ্যের চারটি শূন্য হওয়া আসনের জন্য ১৮ জুন নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান হওয়ায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ছে না। বিজেপির চার প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনা শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়, বরং গুজরাটে কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রতীক। একসময় যে রাজ্যে কংগ্রেস ছিল প্রধান রাজনৈতিক শক্তি, সেখানে এখন বিজেপির আধিপত্য এতটাই দৃঢ় যে, রাজ্যসভার ১১টি আসনের সবকটিই তাদের দখলে চলে যাচ্ছে।
রাজ্যের চারটি শূন্য হওয়া আসনের জন্য ১৮ জুন নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান হওয়ায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ছে না।
এই সাফল্য বিজেপির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি গুজরাটের পুরসভা ও স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনেও বিজেপি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। রাজ্যের শহর ও গ্রামাঞ্চল, উভয় ক্ষেত্রেই দলটি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করেছে। রাজ্যসভার এই জয় সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাজ্যসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
অন্যদিকে, রাজ্যসভা নির্বাচনকে ঘিরে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়ক ভাঙানোর অভিযোগ তুলে নিজেদের বিধায়কদের কর্নাটকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। দলের দাবি, রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।
