প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) মুকুটে আরও একটি নয়া পালক। পরপর ভোটে জিতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে একটানা প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। বুধবার জওহরলাল নেহরুর টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড ভাঙলেন মোদি। এরপরই তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।
১৯৪৭ সালে স্বাধীন হয় দেশ। গভীর ডামাডোলের মধ্যে মসনদে বসেন নেহরু। এরপর ১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে স্বাধীন ভারতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভোটে জিতে কুরসতিতে বসেন নেহরু। সেই থেকে আমৃত্যু একটানা ৪,৩৯৮ দিন তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বভার সামলেছিলেন। কিন্তু ১০ জুন, বুধবার তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙলেন মোদি। বর্তমানে একটানা ৪,৩৯৯ দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করছেন মোদি। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন মোদি। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ৪,০৭৭ দিনের একটানা প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড ভেঙেছিলেন। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীর নিরিখে এখনও শীর্ষে রয়েছেন নেহরুই। তাঁর কার্যকাল ১৬ বছর ২৮৬ দিন। এরপর রয়েছেন ইন্দিরা। তাঁর কার্যকাল ১৫ বছর ৩৫০দিন।
নয়া এই নজির গড়ার পরই বিশ্বের বহু নেতারা মোদিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। গত ৮ জুন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক একটি চিঠিতে লেখেন, 'শুধুমাত্র আপনার দীর্ঘ কর্মকালেরই নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ আপনার নেতৃত্বের ওপর বারবার যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন।' পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, "একজন একজন আদর্শ নেতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মোদি। ২০ কোটিরও বেশি ভারতীয়কে তিনি দারিদ্র্যসীমার উপরে তুলে এনেছেন।" ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ বিসেসারও মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, "মোদির নেতৃত্বে ভারত আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।"
নেহরুর সময়ে সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশকে গড়ে তোলা ও তার উন্নয়নকে মূলত সরকারের দায়িত্ব হিসাবে দেখা হলেও, মোদি সরকারের যুক্তি ছিল ভিন্ন। ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশে শুধুমাত্র সরকারি যন্ত্রের উপর নির্ভর করে স্যানিটেশন, জল সংরক্ষণ, ডিজিটালাইজেশনের মতো বৃহৎ লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই নাগরিকদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, উন্নয়নের অংশীদার হিসাবে গড়ে তোলার উপরও জোর দেওয়া হয়। মোদির কার্যকালে বারবার উঠে এসেছে স্বচ্ছ ভারত অভিযান, ডিজিটাল পেমেন্ট, জল সংরক্ষণ, টিকাকরণ কর্মসূচি-সহ একাধিক প্রকল্পকে জনআন্দোলনের রূপ দেওয়ার চেষ্টার মতো প্রসঙ্গ। আর সেসবই এগিয়ে নিয়ে চলছেন মোদি।
