সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছিলেন নীতীন নবীন (Nitin Nabin)। এবার পছন্দমতো 'টিম' বেছে নিলেন তিনি। নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির নতুন পদাধিকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ হয়েছে সোমবার। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, স্মৃতি ইরানির মতো পরিচিত মুখ, যাঁরা সাম্প্রতিক অতীতে খানিকটা হারিয়ে গিয়েছিলেন। নীতীনের 'টিমে' জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার মনোজ টিগ্গা এবং মধুছন্দা কর।
তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদ দিয়েছে বিজেপি। রাজস্থানে অনামী ভজনলাল শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করার পরই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে বসুন্ধরার দূরত্ব বেড়েছে বলে জল্পনা ছড়ায়। কিন্তু তাঁকে আবারও ফিরিয়ে আনা হল দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে। অন্যদিকে, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অমেঠিতে অনামী কিশোরী লাল শর্মার কাছে হারের পর রাজনীতি থেকে বেশ দূরে চলে গিয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। ফিরে যান অভিনয় পেশায়। জনপ্রিয় সিরিয়াল 'কিঁউ কি সাস ভি কভি বহু থি'তে দেখা যায় তাঁকে। নীতীনের টিমে সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি।
আইটি সেলের মাথা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অমিত মালব্যকে। প্রায় ১০ বছর ধরে বিজেপির আইটি সেল সামলেছেন মালব্য। পশ্চিমবঙ্গের কো ইনচার্জ হিসাবেও কাজ করেছেন।
সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই সাংগঠনিক রদবদল ঘোষণা হবে-দলীয় স্তরে এমন ইঙ্গিত আগেই দেওয়া হয়েছিল। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং তার পরের দিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি থাকায় ঘোষণার জন্য সোমবারকেই বেছে নেয় বিজেপি। শোনা গিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সংগঠনে এক ঝাঁক নতুন মুখকে জায়গা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ নজর তরুণ নেতৃত্ব এবং মহিলা নেত্রীদের দিকে। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভারসাম্য রেখে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাটাই এই রদবদলের লক্ষ্য।
বাংলা থেকে ক্যানসার চিকিৎসক মধুছন্দা করকে রাখা হয়েছে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায়। এছাড়া আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে আইটি সেলের মাথা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অমিত মালব্যকে। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন ছত্তিশগড়ের দীপক মাস্কে। প্রায় ১০ বছর ধরে বিজেপির আইটি সেল সামলেছেন মালব্য। পশ্চিমবঙ্গের কো ইনচার্জ হিসাবেও কাজ করেছেন। গোটা মিডিয়া টিমই ঢেলে সাজিয়েছেন নীতীন নবীন। জায়গা পেয়েছেন কংগ্রেস মন্ত্রী একে অ্যান্টনির পুত্র অনিল অ্যান্টনি। ফেরানো হয়েছে আরএসএস নেতা রাম মাধবকেও। পরিবর্তনের ভিড়ে জায়গা ধরে রেখেছেন সুনীল বনসল, বিএল সন্তোষরা।
