সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সবাইকে খেতে দিয়ে, তারপর নিজে খাওয়া। অবেলায় খেতে বসা। হয়ত এক পেট খিদে নিয়েও, ভরপেট না খাওয়া। কারণ সবার খাওয়ার পরে হাঁড়ির তলানিতে ঠেকে যায় ভাতের পরিমাণ। এই ছবি কমবেশি সব বাড়ির মহিলাদের। ফল অপুষ্টি, রক্তাল্পতা, ওবেসিটি, আরও কত কী। শহরে যদিও বা এই ছবির বদল ঘটে বাড়িভেদে, গ্রামাঞ্চলে অবস্থা আরও করুণ। পরিবারকে খাওয়াতে গিয়ে নিজের পেটে আর কিছু যায়না মহিলাদের। দিনের পর দিন চলতে থাকে এই নিয়ম।
এই নিয়মই পালটাতে চেয়েছিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফ্রিডম ফ্রম হাঙ্গার ইন্ডিয়া ট্রাস্ট। চেয়েছিল সঠিক পরিমাণ, যথাযথ পুষ্টির খাবার মহিলারা যাতে পান সেদিকে নজর দিতে। তাই দুবছরের একটা লড়াই চালায় তারা। বেছে নেয় রাজস্থানের সিরোহি ও বনশওয়াড়া গ্রামের দরিদ্র তফসিলি সম্প্রদায়কে। তাদের মধ্যে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। যাতে বাড়ির মহিলারাও বঞ্চিত না থাকেন। এই লড়াইয়ের আরও একটা দিক অবশ্য ছিল। পুরুষপ্রধান সংসারে মেয়েদের অধিকারের বার্তাও দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সমান অধিকারের বার্তা দিতে চেয়েছিলেন।
রাজস্থান পুষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের বার্তা ছিল কোনও সংসারে খাবার ভাগ হবে সমানভাবে। পুরুষদের পড়ে নয়, মহিলারা খেতে বসবেন সবার সঙ্গে। সাফল্য এসেছে দুবছর পরে। বাড়ির সব সদস্যদের বোঝাতে তারা সক্ষম হয়েছেন যে এটা কোনও নিয়ম নয়। এই অদ্ভুত নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। ৪০৩ জন মহিলাকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। যারা অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। তাদের সুস্থ করে তোলা গেছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। শুধু মহিলাদের নয়, রীতিমতো বোঝাতে হয়েছে বাড়ির পুরুষদেরও। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে ফেলতে সমস্যা হলেও, অবশেষে তারা বুঝেছেন। আর এখানেই সাফল্য পেয়েছে প্রকল্পটি।
The post বাড়ির মহিলারা সবার শেষে খেলে কী হবে জানেন? appeared first on Sangbad Pratidin.
