ফুলশয্যার রাত মানেই সেখানে রোম্যান্টিকতার ছোঁয়া। সঙ্গে খুনসুটির মেজাজও। কিন্তু আগ্রায় এক নববধূর ঘোমটা খুলতে এসে পাত্র যা শুনলেন তা রীতিমতো অভাবনীয়! তাঁর দাবি, ফুলশয্যায় নতুন বউকে নিভৃতে পেতে চাইলে তিনি নাকি সটান বলে দেন, ৯০ লক্ষ টাকা না দিলে ঘোমটাই তুলতে দেবেন না। কোনওরকম শারীরিক সম্পর্ক অনেক দূরের ব্যাপার। বিষয়টা অবশ্য এখানেই থেমে থাকেননি। শ্বশুরবাড়ির সকলকে নাকি এরপর জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন নববধূ!
ঘটনা প্রায় একবছর আগের। আগ্রার বাসিন্দা গৌরবের সঙ্গে কল্পনার বিয়ে একদিনও টেকেনি। যদিও এরপর তিনি সেই বাড়িতে ছিলেন দু'মাস। অভিযোগ, ফুলশয্যায় ওই আচরণের পর নাকি লাগাতার দুর্বব্যবহার করতেই থাকেন কল্পনা। নিজের ও শাশুড়ির সব গয়না পরে সেগুলি আত্মসাৎ করতে চাইছিলেন। সেই সঙ্গেই দাবি করতেই থাকেন ৯০ লক্ষ টাকা দিতেই হবে তাঁর বাবা ও ভাইকে। পরবর্তী প্রায় দু'মাসেরও বেশি সময় এই গোলমাল চলতে থাকে। শেষে জুলাইয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলেই জানাচ্ছেন গৌরব।
নববধূর ঘোমটা খুলতে এসে পাত্র যা শুনলেন তা রীতিমতো অভাবনীয়! তাঁর দাবি, ফুলশয্যায় নতুন বউকে নিভৃতে পেতে চাইলে তিনি নাকি সটান বলে দেন, ৯০ লক্ষ টাকা না দিলে ঘোমটাই তুলতে দেবেন না। কোনওরকম শারীরিক সম্পর্ক অনেক দূরের ব্যাপার।
৩ সেপ্টেম্বর কল্পনার ভাই রাহুল নাকি তাঁর বাবার ব্যাঙ্ক ডিটেইলস পাঠিয়ে দেন গৌরবের বোন মুসকানকে। দাবি করতে থাকেন, ৯০ লক্ষের মধ্যে কিছু টাকা অন্তত যেন পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু গৌরবরা সেই আবেদনে সাড়া দেননি স্বাভাবিক ভাবেই। পরবর্তী কয়েক মাস আর কিছু হয়নি। ২৫ মার্চ কল্পনা তাঁর বাবা ও ভাইদের সঙ্গে গৌরবদের বাড়ি চড়াও হয়ে অসভ্যতা করেন বলে দাবি। এমনকী গৌরবের অসুস্থ বাবাও বাদ যাননি। তিনি সকলকে বাড়ির ভিতরে রেখে বাইরে থেকে আটকে দেন বলেও দাবি। টাকা না দিলে সকলকেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দিতে থাকেন। শেষে পুলিশে খবর যায়। তারপরই এলাকা ছেড়ে চলে যান কল্পনা ও বাকিরা। কোনওমতে রক্ষা পায় গৌরবের পরিবার।
ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে সব খুলে বলেছেন গৌরবরা। কল্পনা ও তাঁর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদিকে বিয়েতে ঘটকালি করা মুন্না মাস্টার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন এই বিয়েটা পুরোটাই ছিল চক্রান্ত। প্রথম থেকেই ঠিক ছিল ফুলশয্যার সময় টাকা চাওয়া হবে। মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
