আজ 'মেরা বুথ, সবসে মজবুত' কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বুথের কর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় ১ ঘণ্টা কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এই কর্মসূচিতে কর্মীদের পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান মোদি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাংলা সফরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, "বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "বাংলার মানুষ আজ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।"
এদিন মোদি জানান, বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ, আর সেই আবেগের মধ্যেই ছিল বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক বাংলার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে তিনি মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত শক্তি, উৎসাহ এবং পরিবর্তনের ইচ্ছা অনুভব করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই শক্তির ভিত্তি হল বুথ স্তরের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং মানুষের অটুট বিশ্বাস।
'মেরা বুথ, সবসে মজবুত' শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, বরং গণতন্ত্রকে তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করার এক বাস্তব আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন মোদি। তিনি বাংলার মা-বোনেদের নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একজন মা যেন নিশ্চিন্তে তাঁর কন্যাকে বড় করতে পারেন, একজন বোন যেন ভয় ছাড়াই বাইরে বেরোতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব। যুব সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলার বহু যুবক আজ নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অত্যন্ত কষ্টের। তিনি আশ্বাস দেন, এমন এক পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা হবে যেখানে যুবকদের স্বপ্ন পূরণ হবে নিজের মাটিতেই।
কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, শ্রমিকরা শোষণের শিকার হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চাপে ভুগছেন। তিনি এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের যেসব রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে সেখানে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। বাংলার মানুষও সেই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। সেই শক্তি বাংলার মানুষের মধ্যে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বুথ স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে, উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে ছিল কৌশল, দিকনির্দেশনা এবং এক প্রবল অনুপ্রেরণা। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মোদি। তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং তাঁদের সংগ্রামকে সম্মান জানান। এক কর্মীর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও সংগঠনের জন্য কাজ করার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, "এমন কর্মীরাই তাঁর শক্তি এবং প্রেরণা।"
এদিন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মতবিনিময় করেন কসবার রীনা দে, শালবনীর চন্দন প্রধান, বাঁকুড়ার নীলোৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়, ফাঁসিদেওয়ার জুরা কিংডোরা। সকলের সামনেই চন্দনের বক্তব্যের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। জুরা কিংডোর সঙ্গে কৃষির বিষয়ে কথা হয় তাঁর।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেন, বাংলার মানুষ আজ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। এই পরিবর্তন আসবে মানুষের শক্তিতে, কর্মীদের পরিশ্রমে এবং উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে। এই কর্মসূচি শুধু একটি সংলাপ নয়, বাংলার ভবিষ্যৎ গড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
