পশ্চিমবঙ্গকে সামনে রেখে পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগে বড়সড় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি প্রায় ৯,৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি রেল প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ খড়গপুর-ভদ্রক (রানিতাল) কিলোমিটার চতুর্থ লাইন। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই রেল করিডরে অতিরিক্ত লাইন তৈরি হলে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে, কমবে দীর্ঘদিনের চাপ। যাত্রী ও পণ্য-দুই ধরনের পরিবহণেই গতি আসবে।
বাংলার দিক থেকে প্রকল্পটির গুরুত্ব শুধু যাত্রী পরিষেবায় সীমাবদ্ধ নয়। পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহণ করিডোর হওয়ায় এই রুট দিয়ে কয়লা, লৌহ আকরিক, ইস্পাত, সিমেন্ট, কন্টেনার, অটোমোবাইল ও খাদ্যশস্য পরিবহণে বাড়বে গতি। কেন্দ্রের হিসাবে, প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে বছরে অতিরিক্ত ৭৬ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা তৈরি হবে। ফলে শিল্পাঞ্চলগুলির সঙ্গে বন্দর ও বাজারের যোগাযোগ আরও মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলার রেল যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প নতুন গতি আনতে পারে।
খড়গপুর-ভদ্রক ছাড়াও ওড়িশার ভদ্রক-হরিদাসপুরে ৭৫ কিলোমিটার চতুর্থ লাইন, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর গুস্মিডিপুন্ডি-গুডুরে ৯০ কিলোমিটার তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন এবং ওড়িশার কটক-পারাদ্বীপে ৭২ কিলোমিটার তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনের অনুমোদন হয়েছে। চার প্রকল্প মিলিয়ে রেলের নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে প্রায় ৪১০ কিলোমিটার নতুন লাইন।
চারটি প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের আটটি জেলা উপকৃত হবে। উন্নত রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে প্রায় ৬,৪৪৮টি গ্রাম, যার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। একই সঙ্গে কুলডিহা, ভিতরকানিকা, চণ্ডীপুর, তালসারি-উদয়পুর, পুলিকাট হ্রদ-সহ একাধিক পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগও শক্তিশালী হবে। কেন্দ্রের দাবি, পিএম-গতি শক্তি জাতীয় মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এই প্রকল্পগুলি রেলের পরিকাঠামোয় 'মাল্টি-ট্র্যাকিং'-এর মাধ্যমে ভিড় কমাবে এবং পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে। পরিবহণে রেলের ব্যবহার বাড়ায় জ্বালানি খরচ ও তেল আমদানিও কমবে।
