ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই বড়সড় বদল নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করল সুপ্রিম কোর্ট। ভোট গণনার ক্ষেত্রে প্রথাগত বুথভিত্তিক ইভিএম গণনার পথে না হেঁটে 'টোটালাইজার' নামের নয়া সিস্টেম ব্যবহার করার প্রস্তাব দিচ্ছে শীর্ষ আদালত। সেই প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রের মতামত জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনকেও বলা হয়েছে, নিজেদের মতামত স্পষ্ট করে জানাতে।
আসলে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলায় আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় ভোট গণনায় টোটালাইজার ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি বর্তমানে যে ভোটগণনার পদ্ধতি তাতে বুথ ধরে ধরে ভোট গোনা হয়। এক্ষেত্রে জয়ী বা পরাজিত প্রার্থীদের কাছে প্রতিটি বুথের ভোটের ফলাফলের আলাদা আলাদা তথ্য থাকে। এর ফলে বিজয়ী এবং পরাজিত উভয় শিবিরই মোটামুটি অনুমান করতে পারে কোন এলাকার মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছেন, কোন এলাকার মানুষ দেননি। ফলে ভোটের পর সাধারণ ভোটারদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া শাসক দলও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাছবিচার করার সুযোগ পায়।
এই সমস্যা থেকে নিস্তার পেতেই টোটালাইজার নামের সিস্টেমের ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই সফটওয়্যার ব্যবহার করলে একসঙ্গে ১৪টি পর্যন্ত বুথের ভোট গোনা সম্ভব। এর ফলে কোন বুথে বা কোন এলাকায় কোন প্রার্থী বেশি ভোট পেলেন সেটা বোঝা কঠিন। তাছাড়া এতে গণনাও দ্রুত হবে। মামলাকারীদের দাবি, এই পদ্ধতিতে অনেকাংশে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখে দেওয়া সম্ভব। শীর্ষ আদালত এই প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রের মত জানতে চেয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। কমিশনের বক্তব্য, টোটালাইজার ব্যবহার করে একাধিক বুথের গণনা একত্রে করার দাবিতে তারা সহমত নয়। কমিশনের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গেলে ১৯৫০ এবং ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬১ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে বড় ধরনের সংশোধন দরকার। আর এই ধরনের আইন সংশোধনের দায়িত্ব সরকারের। এর আগে ২০১৬ সালে কেন্দ্রের গড়া বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং মন্ত্রী গোষ্ঠী এই প্রস্তাব খারিজ করেছে।
