ঋণ খেলাপি মামলা এবার বিপাকে এসেল গ্রুপের কর্ণধার সুভাষ চন্দ্র (Subhash Chandra)। আগেই তাঁর ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ সাড়ে ৬ কোটি টাকায় মেটানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল। এবার ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল সিবিআই। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ঋণ পেতে নিজের সম্পত্তি বাড়িয়ে দেখানোর।
সুভাষ চন্দ্রর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে এলআইসি হাউসিং ফাইনান্স লিমিটেড। এলআইসির অভিযোগ, ২০১৮ সালে সুভাষ চন্দ্রর দুই সংস্থা তাঁদের থেকে দুটি পৃথক ঋণ নিয়েছিল। যার মোট পরিমাণ ছিল ৯৮০ কোটি টাকা। ওই দু'টি ঋণের কোনওটিই মেটাতে পারেনি সংস্থাগুলি। সেসময় সুভাষ চন্দ্রর সম্পত্তি দেখানো হয় ৫৯ হাজার ১১৩ কোটি টাকার। চমকপ্রদ বিষয় হল মাত্র ৬ বছর বাদে ২০২৪ সালে নিজেই সুভাষ চন্দ্র জানান, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ মোট ৩১ কোটি। ২০১৮ সালে কোনওভাবেই তিনি অত সম্পত্তির মালিক ছিলেন না। কিন্তু নিজের বিভিন্ন সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে নিজেকে অনেক বেশি ধনী হিসাবে প্রমাণ করেন। তাঁর ওই বিপুল সম্পদের উপর ভিত্তি করেই ঋণগুলি মঞ্জুর করেছিল এলআইসি হাউসিং ফাইনান্স লিমিটেড। এলআইসির অভিযোগ, সুভাষ চন্দ্রর সঙ্গে আরও চারটি সংস্থা পুরো জালিয়াতিতে যুক্ত।
গত ২৮ আগস্ট ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নীলেশ শর্মা সুভাষ চন্দ্রের প্রস্তাবিত ঋণ মকুবের পরিকল্পনায় সায় দিয়ে দেন। সুভাষ চন্দ্রের বিভিন্ন সংস্থার নামের পাশে সব মিলিয়ে ঋণ রয়েছে ২২ হাজার ৬ কোটি টাকা। এবং সেই ঋণ মেটাতে সংস্থাগুলি অপারগ। ওই ঋণগুলির গ্যারান্টার ছিলেন সুভাষ চন্দ্র নিজে। সুভাষ চন্দ্র আদালতে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ওই বিপুল ঋণ শোধ করতে অপারগ। ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে বড়জোর সাড়ে ৬ কোটি টাকা শোধ করার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর। যা কিনা তাঁর মোট ঋণের ০.০৩ শতাংশ মাত্র। বিচারক নীলেশ শর্মা ওই রিপেমেন্ট প্ল্যানে সায় দেন। পরে সব ঋণ মিটিয়ে সুইজারল্যান্ডে গিয়ে বন্ধুর সংস্থায় চাকরি করারও পরিকল্পনা করেন সুভাষ। যদিও ওই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। কারণ সুভাষের রিপেমেন্ট প্ল্যানে স্থগিতাদেশ দিয়ে দিয়েছে এনসিএলটি।
ওই রিপেমেন্ট প্ল্যানে এলআইসিরি মোট ১৩২২ কোটি টাকা ঋণের বদলে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। এলআইসি সেটা মেনে নিতে আপত্তি জানায়। এবং সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। সিবিআই সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করল। ফলে এবার কিছুটা হলেও বিপাকে পড়বেন সুভাষ চন্দ্র।
