নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় (NEET Paper Leak Case) গ্রেপ্তার ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী থেকে শুরু করে 'সুবিধাভোগী' পরীক্ষার্থী পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস ও গতিপথ শনাক্ত করা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো চক্রটিই উন্মোচিত করে ফেলেছে তারা।
দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে দাখিল করা এই চার্জশিটে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রমাণ লোপাট এবং ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন’ ও ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর মতো নানা ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সপক্ষে ৩৬০ জন সাক্ষী, ৪২২টি নথিপত্র এবং ৪৩টি বস্তুগত প্রমাণের উপরে ভিত্তি করেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই জানানো হয়েছে, চার্জশিটে উল্লেখিত ১৩ জন অভিযুক্তই রয়েছেন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে। সম্ভবত বুধবার এই মামলার শুনানি হতে চলেছে।
সিবিআই জানিয়েছে, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে দ্রুত পদক্ষেপ করেছিল। দ্রুত পরিষ্কার হয়ে যেতে থাকে ঘটনাক্রম। আর এর ফলে সংশ্লিষ্ট চক্রের পর্দা ফাঁস হয়ে যায়। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্যে মোট ৯২টি স্থানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বহু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফলে তা করা সম্ভব হয়েছে।
নিট সংক্রান্ত কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত দু'জন ব্যক্তি প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করেছিলেন এবং তা ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা আর্থিক লেনদেনের সূত্রও খুঁজে বের করেছেন এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লকার ও একটি ডি-ম্যাট অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরই ১২ মে অভিযোগ দায়ের হয়। সিবিআই ওই দিনই একটি এফআইআর দায়ের করে এবং দেশজুড়ে তদন্ত শুরু করে। যার প্রায় আড়াই মাস পরে পেশ হল চার্জশিট।
