আহমেদাবাদে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু। বিমান পরিচালনা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ। যুদ্ধের জেরে উড়ান চলাচলেও কাটছাঁট হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রবল চাপে এয়ার ইন্ডিয়া। সেই অভিযোগের পাহাড় মাথায় নিয়ে ইস্তফা দিলেন উড়ান সংস্থাটির সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন। আগামী বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ ছিল। কিন্তু একবছর আগেই দায়িত্ব ছাড়লেন ক্যাম্পবেল।
গতবছর আহমেদাবাদে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। তারপর থেকেই লাগাতার প্রশ্ন উঠেছে উড়ান সংস্থাটি নিয়ে। কখনও উড়ানের নিরাপত্তা, কখনও পরিষেবা, কখনও মাঝআকাশে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি-বারবার সমালোচিত হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। গত বছরের শেষদিকে এক যাত্রীকে মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটের বিরুদ্ধে। লাগাতার অভিযোগে বিদ্ধ হয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার আর্থিক লোকসানও হুহু করে বেড়েছে বলেই খবর। অপারেশন সিঁদুরের পর পাক আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ঘুরপথে চলাচল করতে গিয়েও ব্যাপক আর্থিক লোকসান হয় এয়ার ইন্ডিয়ার।
লাফিয়ে বেড়েছে বিমানে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবর্ষে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে সংস্থাটির।
গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) সমস্যা বাড়িয়েছে ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল এবং আমেরিকার যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে তেল আভিভগামী বিমান পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রেখেছে এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এই পরিষেবা। অন্যান্য উড়ান পরিষেবাগুলিও যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হয়েছে। সেই সঙ্গে লাফিয়ে বেড়েছে বিমানে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবর্ষে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে সংস্থাটির। এহেন পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছেন ক্যাম্পবেল উইলসন।
২০২২ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও পদে বসেছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের চুক্তি ছিল সংস্থার সঙ্গে। ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা তাঁর। নানা দেশের উড়ান সংস্থা পরিচালনা করেছেন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে ভর্তুকি ব্যবস্থাও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়ায় প্রবল চাপের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি, মেয়াদ ফুরনোর একবছরেরও বেশি সময় বাকি থাকতে। তবে নতুন সিইও দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত কাজ সামলাবেন উইলসন।
