সংবাদ প্রাতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলদেশে মৌলবাদ উচ্ছেদে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। তবুও ক্রমাগত হামলার শিকার হচ্ছে সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সম্প্রতি নজিরবিহীনভাবে ধর্মীয় উন্মাদনার শিকার হয়েছে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা সম্প্রদায়। গত ২ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার একটি গ্রামে হামলা চালিয়ে মৌলবাদীরা হত্যা করে সাত নিরীহ গ্রামবাসীকে। শুধু তাই নয়, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় তিনশোরও বেশি বাড়িতে। ওই হামলায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। হামলাকরীদের থেকে রেহাই পায়নি বৃদ্ধ ও শিশুরাও।
[দার্জিলিংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের শহরে ফেরাতে বিনামূল্যে বাসের ব্যবস্থা মমতার]
ওই নারকীয় হত্যালীলার প্রতিবাদে এবার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ত্রিপুরা। বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় ‘চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’। সংগঠনটির প্রায় শতাধিক সদস্য এদিন আগরতলার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন। এদিন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন থেকে রওনা হয়ে শহরটি পরিক্রমা করে ওই বিক্ষোভ মিছিল। বাংলদেশ ভিসা অফিসের সামনেও বিক্ষোভ দেখায় প্রতিবাদীরা। তারপর বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনারের কাছে একটি প্রতিবাদপত্র পেশ করেন প্রতিবাদীরা। ওই পত্রে বংলাদেশে বৌদ্ধ, হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, ২ জুনের ঘটনায় আহত ও মৃতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও ১৯৯৭ সালের বাংলাদেশ ও চাকমাদের মধ্যেকার শান্তি চুক্তি কার্যকর করার দাবিও তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন বাংলদেশের চট্টগ্রামে চাকমাদের উপর হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। প্রায়ই সে দেশের সংখ্যাগুরুরা হামলা চালায় চাকমাদের উপর। প্রসঙ্গত, বুধবার রাজধানী ঢাকা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে ফরিদপুর জেলার ভাঙা উপজেলার খাটরা গ্রামে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়। হামলায় জখম হয় ১০ জন। অন্যদিকে, কল্পনা চাকমা অপহরণের বিশ বছর পূর্তির কর্মসূচির মিছিলকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি শহরে ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বুধবার জেলা শহরের স্বনির্ভর এলাকায় এ ঘটনার পর মানিকছড়ি ও রামগড়ে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
[কারফিউ শিথিল, ছন্দে ফিরছে মান্দসৌর]
The post চাকমাদের উপর বেনজির হামলা, প্রতিবাদে উত্তাল ত্রিপুরা appeared first on Sangbad Pratidin.
