ফের বঞ্চনা! মমতার বদলে দিল্লিতে মোদির বৈঠকে বক্তব্য রাখলেন বাংলার অস্থায়ী রাজ্যপাল

10:27 PM Aug 06, 2022 |
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ অর্থাৎ স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে দেশজুড়ে বিশাল উদযাপনের প্রস্তুতি বৈঠক। রাষ্ট্রপতি ভবনের কালচারাল সেন্টারে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপালকে আলোচনার টেবিলে আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সেই বৈঠকে হাজির হতে চারদিনের সফরে দিল্লি গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনের সেই বৈঠকে হাজিরও ছিলেন তিনি। কিন্তু ফের বঞ্চনার শিকার হতে হল তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রীর বদলে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ নিয়ে মতামত জানতে বাংলার অস্থায়ী রাজ্যপাল লা গণেশনকে (La Ganeshan) ডাকা হল। তিনিই যা বলার বললেন। বৈঠক সেরে বেরিয়ে প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ না খুললেও ঘনিষ্ঠ মহলে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

আগামী ১৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা পা রাখছে ৭৫ বছরে। সেই উপলক্ষে সারা বছর ধরেই কোনও না কোনও অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে ওই বিশেষ দিনের জন্য বেশ কিছু বিশেষ কর্মসূচি স্থির করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তা নিয়ে আলোচনা করতেই শনিবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বসেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যান্য  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেও বাংলার ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটল না। 

[আরও পড়ুন: জাদুঘরে গুলি: সামান্য বচসা নাকি টার্গেট কিলিং, পার্ক স্ট্রিটের বার্স্ট ফায়ারের কারণ কী?]

এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেন না। তাঁর বদলে রাজ্যের তরফে মতামত জানাতে ডাকা হল অস্থায়ী রাজ্যপাল লা গণেশনকে। যিনি মাসখানেক আগেই বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গে এসেছেন মণিপুরের রাজ্যপাল। তিনিই বাংলার তরফে ওই বিশেষ দিনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলে খবর। কেন্দ্রের তরফেও যাবতীয় নির্দেশিকা তাঁকেই বলা হয়েছে। 

Advertising
Advertising

[আরও পড়ুন: উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন: লড়াই এখনও শেষ হয়নি, ধনকড়কে শুভেচ্ছা জানিয়েও বার্তা আলভার]

দীর্ঘক্ষণের বৈঠক শেষে বেরিয়ে প্রকাশ্যে এই ‘বঞ্চনা’ নিয়ে কিছু না বললেও ঘনিষ্ঠ মহলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অবদান বাংলার সংগ্রামীদের। তারপরই রয়েছে পাঞ্জাব। কিন্তু বাংলার কথা বাংলার মানুষের থেকে শোনা হল না। উলটে যিনি সদ্য বাংলায় এসেছেন, ভালভাবে সবটা জানেন না, চেনেন না, তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হল!  রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে সেই দূরত্ব কতটা বাড়ানো হচ্ছে, এই ছবি ফের তা বুঝিয়ে দিল।

রবিবার নীতি আয়োগের (Niti Aayog) বৈঠক। মোদির নেতৃত্বাধীন বৈঠকে হাজির থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের।  সেখানেও তিনি বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে মমতা ঘনিষ্ঠ মহলেই। 

Advertisement
Next