গত নভেম্বরে হাইকমান্ডের নির্দেশ উপমুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে হাসিমুখে প্রতারাশ সারেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah)। দু'জনেই জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে 'কোনও সমস্যা নেই'। যদিও বছর ডিঙোতেই ক্ষমতা ভাগভাগি নিয়ে দক্ষিণী ঝঞ্ঝা কংগ্রেসে। 'বিভ্রান্তি' দূর করতে শীর্ষনেতা রাহুল গান্ধীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছেন সিদ্দারামাইয়া। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এমনটাই দাবি।
সূত্রের খবর, হাইকমান্ডকে সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন যে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী তিনি। পাশাপাশি নেতৃত্ব (পড়ুন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বদল) পরিবর্তনের লাগাতার গুজবের কারণে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলতে চান কর্নাটকের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিককালে একাধিক বার কর্নাটকের নেতৃত্বে সংঘাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষনেতা। যদিও দলের অন্দরেই ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কানাঘুষো চলছে। এই 'বিভ্রান্তি'র অবসান চান সিদ্দারামাইয়া। কথা বলতে চান রাহুল গান্ধীর সঙ্গে।
গত মাসেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কর্নাটকে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, কর্নাটকে কে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থাকবেন তা নিয়ে হাইকমান্ড স্তরে কোনও বিভ্রান্তি নেই। তিনি বলেন, এই বিষয়ে "হাইকমান্ড কোনও বিভ্রান্তি তৈরি করেনি।" পাশাপাশি খাড়গে জোর দিয়েছিলেন, রাজ্য কংগ্রেসের যে কোনও অভ্যন্তরীণ সমস্যা রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারাই সমাধান হওয়া উচিত। যদিও নতুন করে সিদ্দারামাইয়ার হাইকমান্ডের কাছে স্পষ্টিকরণ চাওয়ায় অস্বস্তিতে বাড়ছে দলের ভিতরেই।
প্রসঙ্গত, দু’বছর আগে বিপুল জনাদেশ নিয়ে কর্নাটকে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে আড়াআড়ি ভাগ হয় দুই শিবির। একদিকে প্রবীণ নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। সকলেই একবাক্যে মেনে নেন, কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফিরে আসার পিছনে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অন্যতম। তারপরও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয় সিদ্দারামাইয়াকে। শোনা যায়, সেই সময় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ছিল আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার। সেই আড়াই বছর পূর্ণ হয়েছে বর্তমান কর্নাটক সরকারের। এদিকে সিদ্দারামাইয়া ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি সরতে রাজি নন। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত।
