পথকুকুর নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। তার মধ্যেই তেলেঙ্গানায় ৫০০টি পথকুকুর খুনের ঘটনা সামনে এল। এই বর্বর ঘটনা রাজ্যের কামারেড্ডি জেলার। চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হল, পথকুকুরের গণহত্যার পিছনে রয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান! নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই নাকি নির্বিচারে অবলা প্রাণীদের হত্যা করা হয়েছে। বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে কুকুর খুনের ঘটনায় পঞ্চায়েত প্রধান-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
কামারেড্ডি জেলার বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে 'কুকুরমুক্ত গ্রাম'-এর ‘প্রতিশ্রুতি' দিয়েছিলেন জনপ্রতিনিধিরা। ভোটে জেতার পর সেই প্রতিশ্রুতি পালন করতেই গ্রামে পথকুকুর হত্যা চলছে! এখনও পর্যন্ত সংখ্যাটি ৫০০তে পৌঁছেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পথকুকুরদের মেরে গ্রামের অদূরে একটি নির্জন স্থানে মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পশুচিকিৎসকদের দল সেই ‘কবর’ খুঁড়ে কুকুরদের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করছে। প্রাথমিক ধারণা কুকুরগুলিকে বিষ খাইয়ে মারা হচ্ছে। বিষের ধরণ জানতে নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
কুকুরের মনস্তত্ব একজন মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় বলেই মন্তব্য করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টে পথকুকুরকে নিয়ে মামলায় প্রাণীদের আশ্রয়কেন্দ্র রাখা উচিত কিনা তা নিয়ে শুনানি চলছে। মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন তিন বিচারপতিদের বেঞ্চ বলে, “কুকুরের কামড়ে শিশু বা বয়স্কদের মৃত্যু হলে বা জখম হলে রাজ্য কর্তৃক মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেব আমরা।” যারা রাস্তায় নিয়মিত কুকুরদের খাওয়ান কুকুরের কামড়ে মৃত্যু, জখমে তাঁদেরও দায় নিতে হবে, পর্যবেক্ষণ আদালতের। সুপ্রিম বেঞ্চের বক্তব্য, কুকুরের খাবারদাতারাও দায়বদ্ধ। আপনারা বাড়িতে নিয়ে যান (কুকুরদের), নিজের কাছে রাখুন। কেন ওরা ঘুরে বেড়াবে, কামড়াবে, তাড়া করবে? কুকুরের কামড়ের প্রভাব আজীবন থেকে যায়।”
এর আগে কুকুরের মনস্তত্ব একজন মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় বলেই মন্তব্য করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, “কুকুরে ভীত মানুষের গন্ধ পায় কুকুর এবং তাকেই কামড়ায়”। এইসঙ্গে শুনানিতে রাস্তায় এবং লোকালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাস্তায় পথকুকুরদের খাওয়ানোর বিরোধিতায় সওয়াল করা এক আইনজীবী নাগরিকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, রাষ্ট্র পথকুকুরের মালিক নয়, টিকাদান, নির্বিজকরণের মধ্যেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ। কিন্তু পথকুকুরের জন্য বিপদে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ জানুয়ারি।
