প্রশ্নপত্র তৈরি। এবং অনুবাদ। দুইয়ের ক্ষেত্রেই 'ব্যাপক' হারে প্রয়োগ হয়েছিল এআই তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগের কেন্দ্রে ইউজিসি নেট পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের দাবি, এই কারণেই আগের 'ত্রুটিপূর্ণ' পরীক্ষা বাতিল করে, নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে ইংরেজি, কমার্স এবং সোশিওলজি-এই তিনটি পেপারের। চলতি বছর ‘ইউজিসি নেট’ পরীক্ষা আয়োজিত হয়েছিল ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। আবারও সেই পরীক্ষগুলিতে হবে বলে জানিয়েছে এনটিএ।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন প্রশ্ন তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হয়েছে। এনটিএর প্রাক্তন বিশেষজ্ঞরা এমনটাও মনে করছেন, তৈরি হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্র অনুবাদ করতেও ব্যবহার করা হয় এআই। ওই রিপোর্টেই শিক্ষা মন্ত্রকের এক উচ্চকর্তার উল্লেখ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানিয়েছে, এনটিএর দুই আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করেছে শিক্ষামন্ত্রক। কেন উত্তরপত্র প্রকাশ করা হয়নি, সেই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি এনটিএ কর্তারা, এমনটাই সূত্রে খবর।
যদিও এইআই ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করেছে এনটিএ। অধিকর্তা অভিষেক সিং দাবি করেছেন, বাতিল হওয়া প্রশ্নপত্রগুলিতে এআই-এর প্রয়োগ হয়নি। মানব-চোখে খতিয়ে দেখেই কিছু ত্রুটি মিলেছিল। আর তাই সেগুলি বাতিল করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের নাম কী করে ভুল হল সোশিওলজি প্রশ্নপত্রে? ইংরাজি এবং কমার্স প্রশ্নপত্রে অধিকাংশ প্রশ্নই গতবারের পেপারে ছিল বলে অভিযোগ। তারপর থেকেই সংশয় তৈরি হয়, প্রশ্নপত্র তৈরিতে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।
উল্লেখ্য, ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নেট পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা আবারও নেওয়া হবে। ইংরেজি পরীক্ষা হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। সময় নির্ধারিত হয়েছে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা অবধি। কমার্স পরীক্ষা হবে একই দিন অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বরেই। এই পরীক্ষাটি দুপুর তিনটে থেকে সন্ধে ৬টা অবধি চলবে। সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষাটি হবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর। সময় নির্ধারিত হয়েছে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা অবধি। তবে এই তিন বিষয়-সহ মোট ৮৪টি বিষয়ের ফলাফল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই প্রকাশিত হবে।
