সুশান্ত সিং রাজপুতের ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুতে (Disha Salian Death Case) সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল বম্বে হাই কোর্ট। সোমবার দিশার মৃত্যুতে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একঝাঁক 'হেভিওয়েট' নাম রয়েছে সন্দেভাজনদের তালিকায়। শিব সেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, তাঁর পুত্র আদিত্য ঠাকরে, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অনিল দেশমুখের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে সেখানে। রয়েছে রিয়া চক্রবর্তী, ডিনো মোরিয়াদের মতো অভিনেতাদের নামও।
এফআইআরে বলা হয়েছে, 'দিশার মৃত্যুর সময়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন উদ্ধব। তাঁর পুত্র আদিত্য এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্যোগে বহু নথিপত্র নষ্ট করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য পেশ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ নয়ছয় করে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করেছে পুলিশ।' এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতেই দিশার আত্মহত্যার গল্প ফেঁদে প্রচার করা হয়েছিল। থানা থেকে শুরু করে ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকা চিকিৎসক এবং নার্সদেরও অভিযুক্ত তালিকায় রেখেছে সিবিআই।
২০২০ সালে মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ৮ জুন দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। মালাডের বহুতলের নিচে দিশার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দুজনের রহস্যমৃত্যুর পর একাধিক প্রশ্ন ওঠে বলিউডে। নাম জড়ায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধবের পুত্র আদিত্যর। দিশার বাবা দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। সেখানে আদিত্য উপস্থিত ছিলেন। কারণ আদিত্য এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য জেনে ফেলেছিলেন দিশা। যেভাবে দিশার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে অভিহিত করা হয়েছে, তার বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দিশার বাবা।
উচ্চ আদালতের নির্দেশ, এফআইআর দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। তদন্ত হবে সংস্থার কোনও এক সিনিয়র অফিসারের নেতৃত্বে। সেই নির্দেশ মেনেই সোমবার এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। সেখানে মহারাষ্ট্রের একঝাঁক রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাম জ্বলজ্বল করছে। তবে প্রথম থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদিত্য। তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে বলেও তাঁর দাবি।
