ঘরে কোলের সন্তান। তাকে রেখে নিত্যদিন যেতে হত অফিসে। সন্তানের চোখের জল দেখে কেঁদে উঠত মায়ের মন। একদিকে মাতৃত্ব। আরেকদিকে চাকরি। দু'য়ের টানাপোড়েন সামলাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সন্তানের মুখ চেয়ে আচমকা চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তরুণী। হোমস্টের ব্যবসা করে বর্তমানে লাখপতি তিনি।
স্নিগ্ধা নামে ওই তরুণী দিল্লির বাসিন্দা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত ২০২৩ সালে চাকরি করতেন। সেই সময় সন্তান একেবারেই ছোট। মাকে ছাড়া থাকার কথা ভাবতেও পারত না। তাই তরুণী অফিসে বেরলেই কাঁদতে শুরু করত। তা দেখে কেঁদে উঠত মায়ের মন। বহুবার ভেবেছেন চাকরি ছেড়ে দেবেন। তবে নিত্যদিনের খরচের কথা ভেবে চাকরি ছাড়ার সাহস পেতেন না। একদিন চাকরি ছাড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। জানতেন না পরদিন থেকে কী করবেন তিনি। চাকরি ছাড়ার পর কিছু করার তাগিদ যেন কুড়ে কুড়ে খেতে তাঁকে। শুরু করেন হোটেল ব্যবসা নিয়ে গবেষণা। এরপর দিল্লিতে এআরবিএনবি-তে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন তরুণী।
তিনি জানান, প্রথম বুকিং পাওয়ার সময় আতঙ্ক লাগছিল। মনে হচ্ছিল, ভালো কিছু হবে না। তেমন ভালো আয়ও হত না। পরে অবশ্য আয় বাড়তে থাকে। লাভের মুখ দেখেন। এখন ২১ লক্ষ টাকা লাভ হয়েছে তাঁর। তরুণী জানান, "শুধু বাড়তি রোজগার নয়। এখন ইচ্ছামতো ছুটি কাটাতে যেতে পারি। আর সবচেয়ে বড় কথা সন্তানকে সময় দিতে পারি। তাকে আর আমার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী-ই বা হতে পারে।" তাঁর পরামর্শ, "মন না চাইলে চাকরি ছেড়ে অন্য ব্যবসায় ঝাঁপিয়ে পড়ুন। প্রথমে ভয় লাগবে। পরে সেই আতঙ্কই আপনাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।" মায়েরা যে সন্তানের জন্য সব কিছু করতে পারেন, তা-ই যেন প্রমাণ করলেন স্নিগ্ধা।
