বাংলার 'শৈলরানি' দার্জিলিংয়ের অন্যতম মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেনে চড়ে গোটা শহর পরিক্রমা। তার আনন্দই বলুন বা অ্যাডভেঞ্চার - একদম আলাদা। এবার সেই টয়ট্রেনকে সামনে রেখে 'সার্ক' গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির পর্যটকদের টানতে দিল্লির যশোভূমিতে আয়োজিত 'সাউথ এশিয়া ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম এক্সচেঞ্জ'-এ হাজির দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। বুধবার থেকে শুরু হওয়া ওই মেলায় ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ তুলে ধরেছে টয়ট্রেনের জয় রাইড ও চার্টার্ড পরিষেবার সম্ভার। ডিএইচআরের এমন উদ্যোগে খুশির হাওয়া পর্যটন মহলে। আগ্রহও দেখাচ্ছেন অনেকে। মেলা চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।
ডিএইচআরের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরীর কথায়, "দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের লক্ষ্য সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির পর্যটকদের টয়ট্রেনের আকর্ষণে দার্জিলিংয়ে হাজির করানো। ওই কারণে মেলায় যতটা সম্ভব টয় ট্রেনের বিভিন্ন পরিষেবা তুলে ধরা হচ্ছে।" আন্তর্জাতিক স্তরের কোনও পর্যটন মেলায় টয়ট্রেন পরিষেবার প্রচার জরুরি বলে ডিএইচআরকে পরামর্শ দিয়েছিল উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন 'হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক'। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, "ব্যবসায়িক মঞ্চগুলিতে যত বেশি টয়ট্রেন হাজির করা যাবে, তত বেশি পর্যটক টয়ট্রেনের টানে দার্জিলিংয়ের হাজির হবেন।"
দিল্লির যশোভূমিতে আয়োজিত 'সাউথ এশিয়া ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম এক্সচেঞ্জ'-এ হাজির দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। নিজস্ব ছবি
ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, 'সার্ক' গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান থেকে বহু পর্যটক বেড়াতে আসেন দার্জিলিংয়ে। এসব দেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন পরিষেবা তুলে ধরবে ডিএইচআর। লক্ষ্য একটাই, যাঁরা আসেন না, তাঁদের দার্জিলিং ভ্রমণে উৎসাহিত করা।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো থেকে ঐতিহ্যবাহী পরিষেবার (সাংস্কৃতিক) খেতাব পায় পাহাড়ের টয়ট্রেন। গত এক বছরে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে নিয়ে টয়ট্রেনে নতুন বেশ কিছু পরিষেবা চালু হয়েছে। সেগুলি ক্রমশ জনপ্রিয়ও হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে কোচবিহারের মহারানির গ্রেট এসকেপ, জঙ্গল ট্রেইল সাফারি এবং জয় রাইড। এখানে থেমে না থেকে ইদানিং সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। বিয়ে, অন্নপ্রাশনের মতো একাধিক অনুষ্ঠানের জন্য 'চার্টার্ড' পরিষেবাও চালু করতে চলেছে ডিএইচআর। মেলায় তুলে ধরা হয়েছে এক টয়ট্রেনের এই বহু রূপ।
