দেশের বহু আঞ্চলিক ভাষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে হিন্দি। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বলে আসছিলেন স্ট্যালিন। এবার হিন্দির বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন শুরু করল তাঁর দল ডিএমকে (DMK)। ত্রিচির রেলওয়ের বিভাগীয় দপ্তরের গেটে হিন্দিতে নাম লেখা কেন? এ নিয়ে নতুন করে উত্তাল তামিল রাজনীতি।
ত্রিচির রেলের প্রান্তিক অফিসের দরজার নাম দেওয়া হয়েছে কর্তব্য দ্বার। হিন্দি, ইংরাজি, তামিল তিন ভাষার হরফেই সেই নাম গেটে লেখা হয়েছে। তাতেই আপত্তি ডিএমকের। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার তামিলনাড়ুতেও সব দপ্তরের নাম হিন্দিতে রাখছে। সেগুলিই তামিল এবং ইংরাজি হরফে লেখা হচ্ছে। রেলের অফিসে লেখা হচ্ছে কর্তব্য দ্বার, ইপিএফও অফিসে লেখা হচ্ছে কর্মচারী ভবিষ্য নিধি অফিস, এমনকী আইনও লেখা হচ্ছে হিন্দি নামে। এই নিয়ে বিক্ষুব্ধ ডিএমকে কর্মীরা ত্রিচির রেলের দপ্তরের ওই গেটের নেমপ্লেটে কালি লাগিয়ে দিয়েছে।
স্ট্যালিন প্রকাশ্যে বলছেন, "এটা কেন্দ্রের হিন্দি আগ্রাসনের নির্লজ্জ উদাহরণ। তামিলনাড়ুতেও হিন্দি নাম রাখা হচ্ছে। একই ভাষাকে তিনটি আলাদা আলাদা ভাষায় লেখা হচ্ছে। তামিল অস্মিতা সংকটে।" ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিক দলও একই সুরে বিঁধছে কেন্দ্রকে। সিপিএমের বক্তব্য এটা স্পষ্ট তামিল অস্মিতায় আঘাত এবং হিন্দি চাপানোর চেষ্টা।
হিন্দির সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষার এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। সেই পেরিয়ার-আন্নাদুরাইয়ের আমল থেকেই দ্রাবিড় রাজ্যগুলি হিন্দি আগ্রাসনের বিরোধী। সম্প্রতি কেন্দ্রের ত্রি-ভাষা নীতিকে সামনে রেখে তামিলনাড়ু নতুন করে হিন্দি বিরোধিতায় নেমেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। তিন ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে অহিন্দি রাজ্যগুলির উপর জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে বার বার সরব হয়েছেন এম কে স্ট্যালিন। তাঁর অভিযোগ, এই হিন্দি আগ্রাসনের জেরে উত্তর ভারতের বহু ভাষা যেমন ভোজপুরী, মৈথিলী, অওয়াধি, ব্রজবুলি, বুন্দেলির মতো ভাষা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এছাড়া বহু আঞ্চলিক ভাষা ধুঁকছে। একচেটিয়া হিন্দি চালু প্রাচীন মাতৃভাষাগুলিকে হত্যার প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
