পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে ইডি হানার প্রতিবাদে উত্তাল কেরল। পথে নেমে বিক্ষোভ বাম কর্মীদের। সেই বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়ল দিল্লিতেও। ইডির সদর দপ্তরে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক খোদ সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। দলীয় সূত্রের খবর, আরও বহু সিপিএম কর্মী আটক হয়েছেন।
আসলে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার সকাল থেকে তাঁর বাড়ি-সহ ১২টি জায়গায় তল্লশি চালাচ্ছে ইডি। সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, বুধবার কেরলের মোট ১২ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। এই তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাড়া বাড়ির পাশাপাশি রয়েছে কেরলের প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী মহম্মদ রিয়াজের কোঝিকোড়ের বাড়িও।
যে মামলায় ইডির এই অভিযান সেটি ২০১৮-১৯ সালের। পিনারাই বিজয়নের মেয়ে টি বীণার বিরুদ্ধে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা ওই বছর বিজয়ন কন্যার সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনস-কে ১.৭২ কোটি টাকা বেআইনি ভাবে দিয়েছিল। এবং আইটি সংস্থাটি সিএমআরএল-কে কোনও পরিষেবা দেয়নি। ইডি এই মামলার তদন্তে নামলে, পালটা সিএমআরএল নামক সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। এবং ইডির দায়ের করা অভিযোগ বাতিলের আবেদন জানানো হয়। মঙ্গলবার সংস্থার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কেরালা হাই কোর্ট। এরপরই কেরলের অন্তত ১২টি জায়গায় তল্লাশি অভিযানে নামে ইডি।
কিন্তু এদিন শুরু থেকেই ইডির তল্লাশিতে বাধা দেয় সিপিএম। রাজ্যের প্রায় সব প্রান্তে পথে নেমে পড়েন বাম কর্মীরা। এমনকী বিজয়নের কান্নুরের বাড়ির সামনে ইডি আধিকারিকদের গাড়ির উপরও চড়াও হন বাম-কর্মী সমর্থকরা। কেরলের অন্য প্রান্তেও কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। দিল্লিতে ইডির সদর দপ্তরে বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। ওই বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে বলে খবর। অন্য সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বৃন্দা কারাট, অশোক ধাওয়ালেরাও আটক হন।
