সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর। গুলি চলল, মৃত্যু হল ৫ জন কৃষকের। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা কৃষক বিক্ষোভে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সমাধান না মেলায় এদিন বিক্ষোভের সুর চড়া হয়।
ভোপাল থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে মান্দাসৌরে এদিন জড়ো হন প্রায় শতাধিক কৃষক। দাবি ছিল খরা কবলিত এলাকায় কৃষিঋণ মকুব, ফসলের দাম বৃদ্ধি। থানা ঘেরাও চলাকালীন কৃষকদের জমায়েতে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনজন। পরে হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন বহু। গুলি চালনার পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চলে যথেচ্ছ ভাঙচুর। এমনকি থানায় আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। মারধর করা হয় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীকে। রাস্তায় দুধ ঢেলে, ফসল ফেলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মৌ-নাসিরবাদ রাস্তা অবরোধ করা হয়, ব্যাহত হয় যান চলাচল।
[তৃণমূল ও মোর্চার মিছিল, পাল্টা মিছিলে তপ্ত পাহাড়]
তবে পুলিশের গুলি চালনার কথা অস্বীকার করেছেন মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিং। কৃষক বিক্ষোভের আড়ালে সমাজবিরোধী কাজ করা হচ্ছিল, তাই পুলিশকে কড়াভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। কৃষক মৃত্যুর প্রতিবাদে গোটা জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
[জানেন, কেন এই ভারতীয়র কোনও নাম নেই?]
কৃষক বিক্ষোভকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী শিবির। কড়া ভাষায় সরকারের দমননীতির সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। বিজেপি সরকারের আমলেই কৃষক মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে রাজ্যে, অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা ও গুনার সাংসদ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। পুলিশের গুলিচালনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন তি্নি। কৃষক বিক্ষোভের সমর্থনে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন গুজরাতের পাতিদার বিক্ষোভের মুখ হার্দিক প্যাটেলও।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো বলছে প্রতিবছর মাসে গড়ে তিনজন কৃষকের মৃত্যু হয় মধ্যপ্রদেশে। ২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১৮৬৮৭ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন এই রাজ্যে। আর এই তথ্য দিচ্ছে খোদ রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা তথ্য।
The post কৃষক আন্দোলনের জেরে রণক্ষেত্র মান্দসৌর, পুলিশের গুলিতে হত ৫ appeared first on Sangbad Pratidin.
