ফের রণক্ষেত্র মণিপুর। ৬০০ জনের বেশি ক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালাল মেতেই সম্প্রদায়ের গ্রামে। জ্বালিয়ে দেওয়া হল একের পর এক বাড়ি। এই ঘটনা ঘটেছে মণিপুরের পশ্চিম ইম্ফল জেলার কান্তো সাবাল এলাকায়। পুলিশের সঙ্গেও রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ চলে ক্ষুব্ধ জনতার। এক ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশাল সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মণিপুর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ১১টা নাগাদ ৬০০ জনের একটি দল কান্তো সাবালের দিকে অগ্রসর হয়। এই এলাকা নাগা ও মেতেই অধ্যুষিত। বড় হিংসার আশংকায় নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে তাঁদের থামানোর চেষ্টা হয়। এর পর পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয় জনতার। অন্তত ৬টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। যদিও এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। এলাকায় শান্তি ফেরাতে কাজ করছে প্রশাসন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ও স্মোক বোমা ব্যবহার করতে হয় নিরাপত্তাবাহিনীকে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ও স্মোক বোমা ব্যবহার করতে হয় নিরাপত্তাবাহিনীকে। এই ঘটনার জেরে ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা আগেই খবর পেয়েছিলেন কুকি সম্প্রদায়ের লোকেরা হামলার পরিকল্পনা করে এই পথেই আসছে। তাই তারা আগে থেকে সতর্ক ছিলেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, দুপুর দেড়টার দিকে ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল এলাকায়। প্রাথমিকভাবে মনেম হচ্ছিল বিক্ষোভকারীরা হয়ত টায়ার পোড়াচ্ছে। পরে আমরা বুঝতে পারি যে, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়িতে। উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগে ঠিক কান্তো সাবালে ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সাল থেকে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। হিংসার জেরে এই এলাকায় কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দফায় দফায় হামলা হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীর উপরেও। চলতি সপ্তাহেই বিদ্রোহীদের হামলায় অসম রাইফেলসের দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়। হামলাকারীদের খোঁজে উখরুল জেলার আবাসিক এলাকা ও জঙ্গলে জোরকদমে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। কুকি-মেতেই সংঘর্ষে এর আগেও দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে কান্তো সাবাল এলাকা।
