shono
Advertisement

Breaking News

Kashmir

টিআরএফের পর এবার পাক অস্ত্র TTK, কীভাবে 'বধ্যভূমি' কাশ্মীরে সন্ত্রাসের রূপরেখা বদলে দিচ্ছে লস্কর!

আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে কাশ্মীরে বার বার খোলস বদলাচ্ছে লস্কর।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 05:22 PM Jul 21, 2025Updated: 05:22 PM Jul 21, 2025

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লস্কর ই তইবা নিষিদ্ধ। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পর র‍্যাডারে চলে এসেছে এদের ছায়া সংগঠন টিআরএফ। এই অবস্থায় কাশ্মীরের রক্তের খেলা জারি রাখতে জন্ম নিল আরও এক সংগঠন। পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতে গঠিত এই সংগঠনের নাম তেহরিক ই তালিবান কাশ্মীরিস্থান বা টিটিকে। এই সংগঠনের মাথা কমান্ডার মুসা গজনবী লস্কর ই তইবার অন্যতম শীর্ষ নেতা। এই ঘটনায় গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে উপত্যকার মাটিতে এভাবেই বারবার খোলস বদলাচ্ছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর। টিটিকে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতেই নড়েচড়ে বসেছে দেশের গোয়েন্দা বিভাগ।

Advertisement

গতমাসে সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের অস্তিত্বের কথা তুলে ধরেছে মুসা নামের এই জঙ্গি। যেখানে বলা হয়েছে এই সংগঠন কাশ্মীর বা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়। বরং তারা সম্পূর্ণভাবে ভারত বিরোধী। সংগঠনের মুখপাত্র কাশ্মীরের সোপরের বাসিন্দা মেহবুব ভাট তাদের সংগঠনের তিনটি লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেয়। যেখানে বলা হয়েছে, ১. ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করাই টিটিকের মূল লক্ষ্য। ২. এই সংগঠন পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কোনও নিয়ন্ত্রণরেখা মানবে না। এবং তৃতীয় বার্তা কিছুটা ব্যতিক্রমী। অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের পথে না হেঁটে এই সংগঠনের তরফে পাকিস্তানকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, পাক সেনা যেন তাদের ভারত বিরোধী জেহাদে কোনওরকম হস্তক্ষেপ না করে। সংগঠনের মূল লক্ষ্য কাশ্মীরের যুবসমাজের মগজ ধোলাই করে সংগঠনে টানা। তবে টিটিকে প্রকাশ্যে পাক সেনাকে তাদের লড়াই থেকে দূরে থাকার বার্তা দিলেও গোয়েন্দাদের দাবি, ওটা আসলে ভাঁওতা। আইএসআই-এর মদত ছাড়া কাশ্মীরে এমন সংগঠন তৈরি করা সম্ভবই নয়।

কাশ্মীরের মাটিতে নতুন এই সন্ত্রাসী সংগঠনের উৎপত্তি প্রসঙ্গে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, আসলে কাশ্মীরকে অশান্ত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান সেনা ও আইএসআই। লস্কর ই তইবা, জইশের মতো সংগঠনগুলি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের তকমা পাওয়ায়। সরাসরি কাশ্মীরের মাটিতে তাদের পক্ষে কাজ চালানো কঠিন। এই অবস্থায় আইএসআই-এর মদতে একের পর এক ছায়া সংগঠন তৈরি করে কাজ চালাচ্ছে লস্কর। সেই লক্ষ্যেই কাশ্মীরে গঠন করা হয়েছিল টিআরএফ। তবে ২২ এপ্রিলের পর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এই সংগঠনকে। আমেরিকাও এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের আশঙ্কা রাষ্ট্রসংঘও এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই গঠিত হল টিটিকে।

নতুন এই সংগঠন পাকিস্তানকে তাদের লড়াই থেকে দূরে থাকার বার্তা দিলেও এটি আসলে বিশ্বকে বোকা বানানোর ছক। যাতে বিশ্ব মনে করে টিটিকে কাশ্মীরের স্থানীয় সংগঠন, যারা কাশ্মীরের মানুষের হয়ে লড়ছে। তবে বাস্তবে পর্দার আড়াল থেকে এই সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করবে আইএসআই ও লস্কর। যাতে কাশ্মীরের মাটিতে হিংসা জারি রাখা যায়। গোয়েন্দাদের দাবি, লস্করের নাম বদলের এই ছক বহু পুরনো। এর আগে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে পাকিস্তানের লস্কর ই তইবা নিজেদের নাম বদলে করেছিল জামাত উদ দাওয়া। আইনের হাত থেকে বাঁচতে কাশ্মীরেও সেই একই ছক কষা হচ্ছে। যদিও টিটিকে সংগঠনের কোমর ভাঙতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দেশের গোয়েন্দা বিভাগ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে উপত্যকার মাটিতে এভাবেই বারবার খোলস বদলাচ্ছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর।
  • ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পর র‍্যাডারে চলে এসেছে এদের ছায়া সংগঠন টিআরএফ।
  • এই অবস্থায় কাশ্মীরের রক্তের খেলা জারি রাখতে জন্ম নিল নয়া সংগঠন টিটিকে।
Advertisement