স্টাফ রিপোর্টার: একজন কাঁটাতারের ওপার থেকে এপারে লোক পাচার করত। অন্যজন এপারে বসে সেই বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিয়ে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করে দিত। গত এক বছরে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশিকে এভাবেই অনুপ্রবেশ করিয়েছে তারা। সীমান্তের দু’পারেই পাচারের বিরাট চক্র ফেঁদে বসেছিল মছলন্দপুরের এই দুই পাচারকারী। সম্পর্কে তারা বাবা-ছেলে। অবশেষে ধরা পড়ল পুলিশের জালে। মঙ্গলবার রাতে হাবড়া থানার পুলিশ এই ধুর পাচারের দুই চাঁই অসীম ঘোষ ও তার ছেলে শিশির ঘোষকে গ্রেফতার করে। পাশাপাশি তাদের আশ্রয়ে থাকা তিন বাংলাদেশিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
[সিনেমা হলের ভিতরই রমরমিয়ে দেহব্যবসা, তারপর…]
মছলন্দপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম বেলেডাঙায় বসে দু’দেশেই এই পাচারের জাল বিছিয়ে রেখেছিল তারা। পুলিশ সূত্রে খবর, অসীম ও শিশির দু’জনে আগে সঞ্জিত নামে এক পাচারকারীর হয়ে কাজ করত। সে সময় ওই এলাকায় সব থেকে বড় পাচার চক্র চালাত সঞ্জিত। তবে ২০১৬ সালে সঞ্জিত পুলিশের জাল ধরা পড়ে। অসীম ও শিশিরের মতো সঞ্জিতের সব শাগরেদ গা ঢাকা দেয়। কয়েক মাস পর পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল দেখে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই পাচারের সিন্ডিকেট চালু করে অসীম ঘোষ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অসীম ঘোষ বাংলাদেশে থাকত। ওপারের পাচারকারীদের নিয়ে সিন্ডিকেট বানিয়ে এপারের লোক পাঠাত সে। আর ছেলে শিশির এপার থেকে সেই বাংলাদেশিদের নিয়ে গোপন আস্তানায় লুকিয়ে রাখত।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, রাজু আর বিনয় নামে মছলন্দপুরের দুই যুবক লাইনম্যান হিসাবে শিশিরের সঙ্গে কাজ করত। কয়েকদিন মছলন্দপুরে রাখার রাজু ও বিনয় ওই বাংলাদেশিদের হাওড়ার শালকিয়ায় তাদের দলের আরও এক সদস্য বাবলুর কাছে নিয়ে যেত। বাবলু সেখান থেকে একে একে এই বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠিয়ে দিত। তদন্তকারীদের থেকে জানা যায়, কয়েক মাসের জন্য অন্য রাজ্যে শ্রমিকের কাজে পাঠিয়ে দেওয়া হত এই বাংলাদেশীদের। ধৃতদের জেরা করে জানা যায়, ওপার থেকে এপারে আনার জন্য মাথা পিছু ২৫০০ টাকা নিত তারা। এছাড়া থাকা খাওয়া-সহ অন্যান্য খরচ আলাদা। গত এক বছরে হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে পাচার করেছে তারা। তবে এই এক হাজারের মধ্যে কোনও জঙ্গি তাদের হাত ধরে ঢুকে পরেছে কি না তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
[এবার আইআইটি খড়গপুরে হানা দিল মারণ ‘ব্লু হোয়েল’!]
অসীম ও শিশির—সহ ধৃত তিন বাংলাদেশিকে আদালতে পেশ করা হলে তাদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতদের সঙ্গে জঙ্গিযোগ আছে কি না তা জানতেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
The post ইন্দো-বাংলা সীমান্তে ফাঁস বড়সড় অনুপ্রবেশ চক্র, জঙ্গিযোগের আশঙ্কা appeared first on Sangbad Pratidin.
