দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটে (LPG Crisis) বড় ঘোষণা কেন্দ্রের। যে গ্রাহকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পেয়ে থাকেন, পাশাপাশি সিলিন্ডার গ্যাসেরও গ্রাহক। আপাতত তাঁরা সিলিন্ডার গ্যাস পাবেন না। শনিবার কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম এবং ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রক এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, পাইপলাইন সংযোগ থাকলে সিলিন্ডার সংযোগ ছাড়তে হবে। নতুন করে কোনও রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা কিংবা পরিবেশকদের মাধ্যমে সিলিন্ডার রিফিল করা যাবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার এক লিটার তেলও বাইরে যাবে না। এই অবস্থায় দেশে জ্বালানি সংকট ঊর্ধ্বমুখী। দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে মোদি সরকারের তরফে বার্তা দেওয়া হলেও জ্বালানি গ্যাসের অভাব ও মূল্যবৃদ্ধি নজরে পড়ছে। বস্তুত রান্নার গ্যাসের অনটন সামাল দিতেই পাইপলাইন সংযোগ থাকা গ্রাহকদের সিলিন্ডার গ্যাস ছাড়তে বলা হল। কেন্দ্রের সংশোধিত নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পাইপলাইন গ্যাস ব্যবহারকারীদের নতুন করে গার্হস্থ্য LPG সংযোগ দেওয়া হবে না।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর ক্রেতা। যার ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। বর্তমানে এই পথ বন্ধ রেখেছে ইরান। তবে সম্প্রতি ভারতের পতাকাবাহী কয়েকটি জাহাজকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মোদি ও জয়শংকরের একাধিক ফোনালাপের পর মন গলেছে তেহরানের।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্তার দাবি, “আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ একসঙ্গে বুকিং করছেন। এর ফলে আরও সমস্যা বাড়ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বুকিং করুন। যুদ্ধ আবহে একসঙ্গে ৮৮ লক্ষ বুকিং এসেছে। ফলে জটিলতা তৈরি হয়েছে।” আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বহু অসাধু ব্যবসায়ী সিলিন্ডারের কালোবাজারি করছেন। এগুলি রোধ করতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।”
শনিবার কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম এবং ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রক নির্দেশিকার পরেই ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি জানান, নতুন করে বেশ কয়েকটি ভারতীয় পতকাবাহী জ্বালানির (গ্যাস ও তেল) জাহাজকে হরমুজ ডিঙোনোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল, তাতে কি দেশজুড়ে তৈরি হওয়া ব্যাপক জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়া যাবে?
