shono
Advertisement

Breaking News

Commercial LPG

শিল্পের জ্বালানিতে স্বস্তি, এলপিজি বরাদ্দে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

বিশ্বজুড়ে গ্যাসের বাজারে চরম অস্থিরতা। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পক্ষেত্রকে স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল মোদি সরকার।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 02:41 PM Apr 11, 2026Updated: 04:22 PM Apr 11, 2026

বিশ্বজুড়ে গ্যাসের বাজারে চরম অস্থিরতা। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পক্ষেত্রকে স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল মোদি সরকার। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রে এলপিজি (Commercial LPG)বা তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখা হবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং উৎপাদন ব্যবস্থার চাকা সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

Advertisement

গত মাস থেকেই আন্তর্জাতিক সরবরাহ নিয়ে জটিলতা শুরু হয়েছে। ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজি-র প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যার সিংহভাগ আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই পথে পণ্য পরিবহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যানে প্রকাশ, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ২০ লক্ষ টনের বেশি এলপিজি আমদানি হয়েছিল। মার্চ মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১ লক্ষ টনে। অর্থাৎ মাত্র ৩০ দিনে আমদানি কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

এই ঘাটতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় সচিব নিরজ মিত্তল সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে চিঠি দিয়েছেন। নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, ফার্মা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পলিমার, কৃষি, প্যাকেজিং, ইস্পাত এবং কাচের মতো জরুরি শিল্পক্ষেত্রগুলি তাদের আগের চাহিদার ৭০ শতাংশ গ্যাস নিশ্চিতভাবে পাবে। প্রতিদিনের হিসেবে এই বরাদ্দের ঊর্ধ্বসীমা রাখা হয়েছে ০.২ টিএমটি। এর পাশাপাশি যে সব শিল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি) ব্যবহারে সদিচ্ছা দেখাবে, তারা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ গ্যাস পাবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পরিকল্পনায় শিল্পের গুরুত্ব অনুযায়ী অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, এমন কিছু শিল্প আছে যেখানে এলপিজি-র কোনও বিকল্প নেই। অর্থাৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্যাস অপরিহার্য। সেই সব ক্ষেত্রে বরাদ্দে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। তাদের ক্ষেত্রে পিএনজি সংযোগ নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আপাতত শিথিল করা হয়েছে। জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহারকারী এবং কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারকারী শিল্পের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা টেনেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বারবার ঘরোয়া বাজারে গ্যাসের দাম ও জোগান স্থিতিশীল রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আকাশছোঁয়া হলেও সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পের ওপর তার পুরো বোঝা চাপাতে নারাজ সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মাধ্যমে সরকার এই বর্ধিত ব্যয়ভার বহন করছে। সেই সঙ্গে জোর দেওয়া হচ্ছে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর। রাজ্য সরকারগুলিকেও বলা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত সিবিজি বা কম্প্রেসড বায়ো গ্যাস নীতি কার্যকর করে। সব মিলিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের শক্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement