সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেঁপে উঠল গুজরাটের রাজকোট (Gujarat Earthquake)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একটানা চলেছে কম্পন। মাত্র ১২ ঘণ্টায় নয়বার কেঁপেছে রাজকোটের মাটি। যদিও এই ঘটনায় কোনও সম্পত্তি নষ্ট হয়নি এবং কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গিয়েছে, রিখটার স্কেলে প্রতিটি কম্পনই মাইক্রো অথবা মাইনর মাত্রার। বৃহস্পতিবার রাত ৮.৪০ মিনিটের পরে শুরু হয় কম্পন। শেষ কম্পন অনুভূত হয় শুক্রবার সকাল ৮.৩৪ মিনিটে। সব থেকে বেশি মাত্রার কম্পন ছিল ৩.৮।
নয়টির মধ্যে চারটি কম্পন রিখটার স্কেলে ৩-এর মাত্রা পেরিয়ে যায়। সবথেকে কম মাত্রার কম্পন ছিল ২.৭। এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল উপলেতা থেকে ২৭-৩০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে। সাধারণত গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ। তাই রাজকোটে পরপর এতগুল ভূমিকম্প একসঙ্গে হওয়া অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত মাসেই ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে গুজরাটের (Gujarat Earthquake) কচ্ছ। কম্পনে কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, এই ঘটনা ফের উসকে দিয়েছে ২৪ বছরের পুরনো ক্ষত। যে বিপর্যয়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষের জীবন। ভূমিকম্পের প্রথম ধাক্কার পর গত ৩০ ঘণ্টায় ২৪ বার কেঁপে ওঠে গুজরাটের মাটি। এই কম্পনের জেরে গুজরাটে সক্রিয় হয়ে ওঠে কাথরোল হিল, গোরা ডোঙ্গার এবং নর্থ ওয়াগদ ফল্ট নামের তিনটি ফল্ট লাইন।
গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চল এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ। তার উপর তিনটি ফল্ট একসঙ্গে সক্রিয় হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারে এখানে। কচ্ছ ইতিমধ্যেই ১০টিরও বেশি ফল্ট লাইনে অবস্থিত, যার মধ্যে রয়েছে কচ্ছ মেইনল্যান্ড ফল্ট এবং সাউথ ওয়াগদ ফল্ট। যা ২০০১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের (রিখটার স্কেলে ৭.৭) সময় ভেঙে গিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত, বেশিরভাগ ভূমিকম্পই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে, ২০২৫ সালে রেকর্ড করা সাম্প্রতিক কম্পনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে চাপ নতুন ফল্ট সিস্টেমে স্থানান্তরিত হচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে।
