দীর্ঘ টানাপোড়েন, কূটনৈতিক যুদ্ধের পর অবশেষে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে না এলেও, অভিযোগ উঠছে এই চুক্তিতে সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্র কৃষি ও ডেয়ারিতে আমেরিকাকে প্রবেশাধিকার দিয়েছে মোদি সরকার। এই জল্পনা মাথাচাড়া দিতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন দেশের কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, দেশের কৃষকদের সঙ্গে 'ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা' করা হয়েছে। ট্রাম্পের সামনে শেষ পর্যন্ত মাথানত করেছে মোদি সরকার।
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার দাবি, ভারতে শুল্কমুক্ত মার্কিন পণ্যের অনুমতি দেওয়ার অর্থ হল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সামনে মোদি সরকারের আত্মসমর্পণ। দেশের কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এই চুক্তির বিরোধিতায় ৪ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে গিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুতুল দাহ করা হবে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন দেশের কৃষকরা। কিষাণ মোর্চার অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে দেশের বাজার মার্কিন কৃষিজ ও ডেয়ারি পণ্যে ভরে যাবে। ধ্বংস হয়েছে যাবে কৃষিজ পণ্যে 'ন্যূনতম সহায়ক মূল্য'। যা দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক পরিবারকে শেষ করে দেবে।
কিষাণ মোর্চার অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে দেশের বাজার মার্কিন কৃষিজ ও ডেয়ারি পণ্যে ভরে যাবে। ধ্বংস হয়েছে যাবে কৃষিজ পণ্যে 'ন্যূনতম সহায়ক মূল্য'। যা দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক পরিবারকে শেষ করে দেবে।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় তিনি জীবন দিতেও প্রস্তুত। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির জন্য কোনওভাবেই কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না। কৃষিজ ও ডেয়ারি শিল্পকে এই চুক্তির অংশ করা হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতিকে পাশ কাটিয়ে গতকাল ট্রাম্পের এক সচিব জানিয়েছিলেন, এখন থেকে মার্কিন পণ্যের অবাধ প্রবেশ ঘটবে ভারতের বাজারে। যার জেরে উপকৃত হবে মার্কিন কৃষকরা। তাঁর সেই বার্তায় ইঙ্গিত স্পষ্ট যে এই চুক্তিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে মার্কিন কৃষিজ পণ্য ও ডেয়ারি শিল্পকে। তা যদি হয় তবে দেশের কৃষকরা যে বিষয়টি সহজে মেনে নেবেন না তা বলাই বাহুল্য।
যদিও সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি থেকে শস্য, ভুট্টা, সোয়াবিন এবং জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিএম) খাদ্য বাদ দেওয়া হতে পারে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কৃষক এবং পশুপালকদের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করা হয়নি। বস্ত্র, চামড়া, সামুদ্রিক পণ্য এবং রত্ন ও গয়নার মতো শ্রম-নিবিড় ক্ষেত্রগুলি এই চুক্তির ফলে সরাসরি উপকৃত হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, এই চুক্তি ভারতীয় অর্থনীতিতে যুগান্তকারি পরিবর্তন আনবে।
