সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক : যখন গো-রক্ষার নামে উন্মাদনার খবর আসছে একের পর এক জায়গা থেকে, তখন এই ঘটনা হয়তো শিক্ষা দেবে সেইসব ধর্মান্ধদের। বিশেষ ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ এখন প্রায় নিয়মের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। সেই নিয়ম হার মানবে এখানে। বছর সাতাশের জাবর জাট। গুজরাটের কচ্ছের বাসিন্দা। মুসলিম ধর্মাবলম্বী এই মানুষটি পেশায় পশুপালক। তাঁর নিজের ১৬টি গরু ও ৯টি মোষ আছে। তাই গোহত্যা নিয়ে এই হানাহানি তাঁর একেবারেই নাপসন্দ। আর সেই মনোভাব ছড়িয়েই সম্প্রীতির বার্তা দিতে চাইছেন তিনি।
বার্তা দিতে বেছে নিয়েছেন অভিনব পন্থা। আগামী ২০ জুলাই থেকে রীতিমতো অনশনে বসতে চলেছেন তিনি। নখত্রানা তালুকের কুদবাই গ্রামের জাবর ৪৮ ঘণ্টার অনশনে বসছেন। জেলাশাসকের কাছে এই বিষয়ে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। বেশ কিছু দাবি রয়েছে তাঁর। প্রত্যেক তালুকায় গোচারণের জন্য নির্দিষ্ট জমি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। জাবরের আরও দাবি, প্রত্যেক চাষীর কাছে দু’টি করে বলদ রাখতে হবে। এর জন্য অন্তত ৫০ শতাংশ ভরতুকি দিতে হবে কেন্দ্রকে। রাখতে হবে গোশালা। গোমূত্র ও গোবর থেকে তৈরি সার বিক্রির দায়িত্ব নিতে হবে কেন্দ্রকে। রাস্তায় বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরে বেড়ানো গরু ও বাছুরদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিশেষ আইনের প্রবর্তন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
[উসকানি দিলে চিন্তার বিষয়, বসিরহাট কাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন অমর্ত্য সেন]
গরুকে সামনে রেখে যেভাবে একদল লোক হিংসা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত হয়েছে, তার কড়া নিন্দা করেন জাবর। কোনও গোরক্ষকই গোপালক নয় বলে দাবি তাঁর। তাই হয়তো গরুর মূল্য তাঁরা সত্যিই বোঝেন না। গোরক্ষকদের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাবর। গোহত্যার অপরাধে যাদের মেরে ফেলা হয়েছে সেই সব ঘটনারও নিন্দা করেন তিনি।
