গোধরা (Godhra)। গুজরাটের (Gujarat) এই শহরের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে সাম্প্রদায়িক হিংসা। আজও দেশবাসীর মনে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয় ২৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া ভয়ানক হত্যালীলা। কিন্তু সেই গোধরার মাটিতে দাঁড়িয়েই হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের অসামান্য নিদর্শন রচনা করলেন আমজনতা। মুসলিম ভোটাররা সকলে মিলে পৌরপ্রতিনিধি হিসাবে বেছে নিলেন এক হিন্দু নেত্রীকে। মঙ্গলবার ভোটের ফল প্রকাশ হতেই নজর কেড়েছে গোধরার এই পরিসংখ্যান।
মঙ্গলবারের ফলাফল বলছে, গুজরাটে পুরভোটে গেরুয়া ঝড়। সেখানে ১৫টি পুরনিগমের (মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন) সবকটিই জিতেছে বিজেপি। ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে গেরুয়া শিবিরে। আহমেদাবাদে ১৯২ আসনের মধ্যে ১৪৬টি জিতে নিয়েছে বিজেপি। রাজকোট, ভদোদরাতে ৬৫টি করে আসন পেয়ে পুরসভার দখল নিয়েছে মোদি-শাহর দল। সুরেন্দ্রনগর, জামনগর, পোরবন্দর, করমসদ-আনন্দ, নাদীয়াদ, নভসারী, ভাপি এবং মোরবি-সহ ১৫টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে বিজেপি। ডায়মন্ড সিটিতে এবারে বিজেপি জিতে নিয়েছে ১১৫ আসন।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে গোধরা পুরসভার ৭নং ওয়ার্ডটি ঘিরে। সেখানে নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন অপেক্ষাবেন সোনি। পুর নির্বাচনে অন্যান্য দলকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন অপেক্ষাবেন। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, ৭ নং ওয়ার্ডটি পুরোপুরি মুসলিম অধ্যুষিত। ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ ভোটারই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। অর্থাৎ মুসলিম ভোটেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন এক হিন্দু নেত্রী। গোধরার সাম্প্রদায়িক হিংসার ইতিহাসে এ যেন এক নতুন অধ্যায়। ধর্ম ভুলে যেখানে উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন আমজনতা। এই ওয়ার্ডে প্রথমবার জয়ী হলেন কোনও হিন্দু মহিলা।
প্রসঙ্গত, রবিবার গুজরাটে ১৫টি পুরনিগমের পাশাপাশি ৮৪টি পুরসভা (মিউনিসিপ্যালিটি), ৩৪টি জেলা পঞ্চায়েত এবং ২৬০টি তালুকা (ব্লক) পঞ্চায়েতের নির্বাচন ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপির জয়জয়কার। কিছু গ্রামীণ অঞ্চলে সাফল্য পেয়েছে কংগ্রেস এবং আপ। পুরসভাগুলিতে আপ এবং কংগ্রেস ধরাশায়ীই বলা যায়। তবে খাতা খুলেছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম।
