সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপির কাছে 'গোহারা' হারলেও, সাফল্যের ঢাক কাঁধ থেকে নামাতে নারাজ দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির রাজপাট হারিয়ে এবার পাঞ্জাবে সেই ঢাকে বোল তুললেন আপ প্রধান। নিজেই জানালেন, প্রবল বাধা সত্ত্বেও দিল্লিতে তিনি যেভাবে উন্নয়নের কাজ করেছেন তাতে তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত।
আম আদমি পার্টির বরিষ্ঠ নেতা জেসমিন শাহর বই 'কেজরিওয়াল মডেল'-এর পাঞ্জাবি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার মোহালিতে সেই বইয়ের উদ্বোধন মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন কেজরিওয়াল। সেখানেই তিনি বলেন, কীভাবে একজন সরকারি চাকুরীজীবী থেকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আসনে বসেন। নিজের সরকারে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার ঢালাও প্রশংসাও করেন তিনি। কেজরি বলেন, ''যতদিন দিল্লিতে আমাদের সরকার ছিল ততদিন আমাদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তারপরও দিল্লির হাল ফিরিয়ে দিয়েছি আমরা। ফলে আমার মনে হয়, উপরাজ্যপালের প্রবল বাধা সত্ত্বেও সুশাসন ও উন্নয়নের নিরিখে আমাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত।" পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করে কেজরি আরও বলেন, ওরা নিজেরা কাজ করে না অন্যদের কাজ করতেও দেয় না।
কেজরি আরও বলেন, দেশের স্কুল ও হাসপাতালগুলিকে ঠিক করতে একটি রূপরেখা প্রয়োজন। যা তিনি করেছেন। তাঁর কথায়, "আমি কোনও 'সিকন্দর' নই, আমার সব নির্বাচনে জেতার ইচ্ছেও নেই। আমার ইচ্ছে ছিল একটি মডেল প্রস্তুত করা। যাতে স্কুল ও হাসপাতালে সঠিক পরিষেবা পাওয়া যায় না, এই নেতিবাচক মানসিকতা মানুষের ভেঙে যায়। সেটা আমরা করেছি। স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ পরিষেবা, রাস্তাঘাট সবকিছু সুন্দর হতে পারে।"
উল্লেখ্য, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে উপরাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনার দ্বন্দ্ব দেশের রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। দিল্লি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হওয়ায় এখানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপরাজ্যপালের ক্ষমতাও যথেষ্ট। কেজরি অভিযোগ করেন, তাঁকে এড়িয়ে সরকারি আমলাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন উপরাজ্যপাল। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয় মামলা। এদিকে কেজরির সরকারের বিরুদ্ধে আবগারি দুর্নীতিতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয় উপরাজ্যপালের তরফে। এই মামলায় খোদ কেজরি-সহ প্রায় অর্ধেক মন্ত্রিসভা জেলবন্দি হন। এরপর চলতি বছরে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হয় আপ। তবে ক্ষমতা গেলেও নিজের সাফল্যের জয়গান গেয়ে এবার নোবেলের দাবি জানালেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। প্রসঙ্গত, এর আগে নিজের দুই ঘনিষ্ঠ নেতা মণীশ সিসোদিয়া ও সত্যেন্দ্র জৈনকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি করেছিলেন কেজরিওয়াল।
