মাত্র ১৫ বছর বয়স। কিন্তু কিশোর বয়সেই গোটা বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে বৈভব সূর্যবংশী। ক্রিকেট দুনিয়ায় একের পর এক নজির গড়েছে বিহারের সমস্তিপুরের এই কিশোর। তবে কেবল ক্রিকেটে নয়, গোটা দেশের সামাজিক পরিকাঠামোয় বদল এনেছে বৈভব (Vaibhav Sooryavanshi)-এমনটাই মনে করছে আমজনতা। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে তরুণ তুর্কিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় স্পোর্টস অ্যাঙ্কর ঋদ্ধিমা পাঠক। তাঁর সাফ কথা, গোটা একটা রাজ্যের সম্মান ফিরিয়ে এনেছেন বৈভব।
কেন এমন কথা বলছেন ঋদ্ধিমা? তাঁর উপলব্ধি, "আমরা যখন ছোট ছিলাম, স্কুল-কলেজে জিজ্ঞাসা করা হত আমাদের রাজ্যের কথা। তখন বিহারি হিসাবে পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করতাম। আসলে লালুপ্রসাদ যাদবের দৌলতে আমাদের সম্মান এতটুকু বাকি ছিল না। তারপর দু'টো ঘটনা ঘটে-প্রথমত মহেন্দ্র সিং ধোনির উত্থান। দ্বিতীয়ত, গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর। এই দুই কারণে বিহারের সুনাম খানিকটা ফিরেছিল। কিন্তু এখন সেগুলো সবই চলে গিয়েছে ঝাড়খণ্ডে। বিহারের জন্য কিছু বাকি ছিল না।"
ঋদ্ধিমা বলছেন, "বৈভব একেবারে খাঁটি বিহারি। ক্রিকেট দুনিয়ার বিরাট আবিষ্কার। পাশাপাশি ও বিহারের ভূমিপুত্র। ওর জন্য আজ আমরা নিজেদের বিহারি বলে পরিচয় দিতে লজ্জিত হই না। বর্তমানে বিহারের জন্য যে সুনামটা প্রয়োজন ছিল সেটা এনে দিয়েছে বৈভব। রাজ্যের সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য বৈভবকে অজস্র ধন্যবাদ।" আবেগাপ্লুত হয়ে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও প্রকাশ করেন ঋদ্ধিমান। তবে অনেকেই সমালোচনা করেছেন এই মন্তব্যের। নেটিজেনরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, চলতি বছরের সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্সে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এক বিহারি।
উল্লেখ্য, আইপিএল জেতার পর বিরাট কোহলিও বৈভবকে বলেন, “এক বিহারি সব পে ভারী, ফির খতম গেম।”এবারের আইপিএলে বৈভবের ব্যাট যেন আলাদা ভাষায় কথা বলেছে। ১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান! সংখ্যাটা নিছক বড় নয়, প্রায় অবিশ্বাস্য। পাশাপাশি একসঙ্গে পাঁচটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’, ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’, ‘সুপার স্ট্রাইকার অফ দ্য সিজন’, ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ এবং ‘মোস্ট সিক্সেস’। সব মিলিয়ে সে একাই যেন হয়ে উঠেছে এবারের আইপিএলের মুখ। ঋদ্ধিমার মতে, এই সাফল্যে সম্মান ফিরেছে গোটা বিহারের।
